মুম্বইয়ে কাজে গিয়েই রহস্যমৃত্যু বাংলার তরুণের! ‘খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে,’ দাবি পরিবারের!

সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে ভিনরাজ্যে গিয়ে কাজ করতে শুরু করেছিলেন এক তরুণ। কিন্তু সেই কর্মক্ষেত্রেই এবার এল মর্মান্তিক পরিণতি। মুম্বই পুলিশের একটি ফোন কল আসতেই মুহূর্তের মধ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে দুর্গাপুর মহকুমার কাঁকসার বিরুডিহা এলাকায়। রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃত ওই যুবকের নাম বিশ্ব দে (২০)। তরুণের এমন আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তাঁর পরিবার। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং বিশ্বকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে কাঁকসার এক পুলিশ আধিকারিক (যিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি) জানান, “আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ে কথাবার্তা বলেছি। ছেলেটির দেহ বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য সমস্তরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং লাগাতার মুম্বই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
ঠিক কী ঘটেছিল মুম্বইয়ে?
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই মুম্বইয়ের বরালি এলাকায় ঠিকা শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন কুড়ি বছরের তরুণ বিশ্ব দে। গত শনিবার আচমকাই মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে ফোন আসে। জানানো হয়, বিশ্বর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এত অল্প বয়সি এক তরুণের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর বিশ্বাসই করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। কীভাবে মৃত্যু হল তাঁর? মুম্বইয়ের মাটিতে ঠিক কী ঘটেছিল? সেই সব প্রশ্নই এখন কুরে কুরে খাচ্ছে শোকার্ত পরিবারকে।
অন্যদিকে, মৃতদেহের ছবি দেখেই পরিবারের সন্দেহ আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। তাঁদের জোরালো দাবি, মরদেহের যে ছবি তাঁরা দেখেছেন, তাতে আত্মহত্যার তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ঠেকছে। বরং বিশ্বকে খুন করে পরে তা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই বারবার অভিযোগ তুলছেন পরিবারের লোকজন।
মৃতের কাকা মদন দে আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমরা ভাইপোর দেহের ছবি দেখেছি। কিন্তু ছবি দেখে আমাদের স্পষ্ট মনে হচ্ছে, ও নিজে থেকে কোনো চরম পদক্ষেপ নেয়নি। ওকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে ইমেল মারফত বিষয়টি জানিয়েছি। যে ঠিকাদার ওকে কাজে নিয়ে গিয়েছিল, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেছেন। আমরা চাই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক এবং সত্যিটা সামনে আসুক।”
মৃতের কাকিমা অনুশ্রী দে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের ঘরের ছেলেকে মেরে ফেলে তাকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনভাবে ঘটনাটি সাজানো হয়েছে যাতে লোকে ভাবে সে আত্মহত্যা করেছে। আমাদের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো নয়। তবুও আমার স্বামী ও আরও একজন মুম্বই গিয়েছেন বিশ্বর দেহ ফিরিয়ে আনতে। আমরা শুধু শেষবারের মতো আমাদের ঘরের ছেলের মুখখানা দেখতে চাই। আমরা বিধায়কের কাছেও আবেদন জানিয়েছি। কাজের জায়গায় এমন কিছু ভয়াবহ ঘটেছিল যার জেরে তাকে খুন করা হয়েছে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।”
পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস বিধায়কের
মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের এই রহস্যমৃত্যুতে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে পুরো বিষয়টি জানাব। দ্রুত বিশ্বর দেহ রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে এবং এই দুর্দিনে পরিবারের পাশে আমরা সমস্ত রকমভাবে থাকব। আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য, বাংলার কোনো পরিযায়ী শ্রমিককে যেন আর পেটের দায়ে বাইরে কাজে যেতে না হয়।” আপাতত পুলিশের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং এই মৃত্যু রহস্যের সঠিক সত্য উদঘাটনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা পরিবার।