রণক্ষেত্র অরুণাচল! জ্বলল সরকারি দফতর-গাড়ি, পরিস্থিতি সামলাতে বায়ুসেনার বিমানে পৌঁছল কেন্দ্রীয় বাহিনী!

অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নদীর ওপর প্রস্তাবিত বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বাঁধ-বিরোধী আন্দোলন এবার আরও ভয়াবহ ও রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ চরম হিংসাত্মক হয়ে ওঠায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলজুড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই মানবাধিকার কর্মী এবো মিলি, যুব নেতা ওতুল জেরাং এবং তাজোং তালম-সহ একাধিক প্রথম সারির আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে।

আগুন, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে তোলপাড় পাসিঘাট
ইস্ট সিয়াং জেলার পাসিঘাটে আন্দোলন চত্বর মুহূর্তে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের (NHPC) স্থানীয় অফিসে তাণ্ডব চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

হামলা চালানো হয় স্থানীয় বিজেপি সভাপতির বাড়ি, বেশ কয়েকজন বিধায়কের বাসভবন এবং পাসিঘাট থানা লক্ষ্য করেও। আন্দোলনকারীদের রুখতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুললে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

বায়ুসেনার বিমানে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সীমান্তে হাই অ্যালার্ট
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় আসরে নেমেছে কেন্দ্র। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে করে সিআরপিএফ (CRPF) এবং র‍্যাফ (RAF)-এর মতো আধা-সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইস্ট সিয়াং-সহ তিনটি সীমান্তবর্তী জেলায় ইতিমধ্যেই ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আকাশে ও মাটিতে আঁটসাঁট করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কেন তৈরি হলো এই উত্তাল পরিস্থিতি?
স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের অভিযোগ, সিয়াং নদীর ওপর বিশাল বাঁধ নির্মাণ করা হলে তাঁদের জল-জঙ্গল-জমি ধ্বংস হবে। জীবনযাত্রার ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি গোটা অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। এই মারাত্মক আশঙ্কার জায়গা থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক স্থানীয় ও পরিবেশবাদী সংগঠন একজোট হয়ে পথে নেমেছে।

অন্যদিকে, সংঘাত এড়াতে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু আন্দোলনকারীদের প্রতি হিংসার পথ ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হিংসা ছেড়ে সমস্যা সমাধানের জন্য অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে বসা দরকার। তবে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *