“আমাদের বাড়িতে বসে থাকার উপায় নেই!” দিল্লির বিষাক্ত হাওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির চরম উদ্বেগ

দীপাবলির পরই রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। একটি মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ স্পষ্ট মন্তব্য করেন, দীপাবলির আগে পর্যন্ত শহরের বাতাস কিছুটা পরিষ্কার থাকলেও, উৎসব শেষ হতেই দূষণের মাত্রা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।

শুনানিকালে দূষণ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের বাড়িতে থাকার সুযোগ থাকলেও, বিচারকদের সেই উপায় নেই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

এজলাসে বিচারপতি ও আইনজীবীর সওয়াল-জবাব:

মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানান, দীপাবলির ছুটির পর আগামী ১৭ নভেম্বর যেন বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে বিপরীত পক্ষের আইনজীবী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শুনানির আর্জি জানান।

শুনানির দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনার সময় আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং জানান, তিনি দিল্লির দূষণের তীব্রতা সম্পর্কে সচেতন, তা সত্ত্বেও তিনি নিজে আদালতে উপস্থিত থেকে মামলা লড়তে প্রস্তুত। এর জবাবে বিচারপতি বিক্রম নাথ তাঁকে ৩ নভেম্বর আদালতে আসার নির্দেশ দেন।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে ইন্দিরা জয়সিং মন্তব্য করেন যে, দূষণের প্রভাব বিচারকদের ওপরও পড়ে। এর উত্তরে বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, “আমরা তো আর কাজের দিনগুলোতে ঘরে বসে থাকতে পারি না। আপনারা চাইলে বাড়িতে থেকে দূষণ এড়ানোর সুযোগ পান, কিন্তু আমাদের সেই বিকল্প নেই।”

দীপাবলির পর দিল্লির করুণ দশা:

উল্লেখ্য, প্রতি বছরই দীপাবলির সময় এবং তার পরবর্তী দিনগুলিতে দিল্লির বায়ুদূষণ এক ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। বাজির বিষাক্ত ধোঁয়া, যানবাহনের ক্ষতিকর নির্গমন, নির্মাণকাজের ধূলিকণা এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে খড় (পরালি) পোড়ানোর ধোঁয়া যৌথভাবে বাতাসকে বিষাক্ত করে তোলে। শীতের শুরুতে বাতাসে গতি কমে যাওয়ার কারণে এই সমস্ত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বাতাসে জমে পরিবেশকে অতিমাত্রায় বিপজ্জনক করে তোলে।

সুপ্রিম কোর্টের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দীপাবলির পর রাজধানীর বাতাস কতটা বিষাক্ত হতে চলেছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আদালতের এই মন্তব্য দিল্লির দূষণ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দাঁড় করাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *