“দলবদলু নেতাদের পকেট থেকেই যাবে উপনির্বাচনের কোটি কোটি টাকা?” সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন নোটিসে তোলপাড় দেশ!

আইন ও জাতীয় রাজনীতি সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিবেদন: নির্বাচিত বিধায়করা দলবদল করবেন, শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে ইস্তফা দেবেন এবং পুনরায় সেই আসনেই উপনির্বাচনে লড়বেন—আর এই রাজনৈতিক নাটকের দরুন আয়োজিত কোটি কোটি টাকার নির্বাচনের খরচ বহন করবে সাধারণ করদাতা মানুষ! এই ক্ষতিকর প্রবণতার বিরুদ্ধে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই সংক্রান্ত এক জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সোমবার (২৬ অক্টোবর) কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিস জারি করেছে।
কেন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ আবেদনকারী? আইনজীবী কে সুথান এই ঐতিহাসিক মামলাটি দায়ের করেন। তাঁর চাঞ্চল্যকর আবেদন, বিধানসভার আসন বা প্রতিনিধিত্ব কোনো জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। যে ভোটাররা ভোট দিয়ে তাঁকে জয়ী করে পাঠান, আসনটি তাঁদেরই জনমতের প্রতীক। অথচ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক স্বার্থে দল পরিবর্তন করে ইস্তফা দেওয়া ভোটারদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসভঙ্গ করার সামিল।
আবেদনকারীর মূল দাবি, দলবদলের কারণে হওয়া এই অনাবশ্যক উপনির্বাচনের বিপুল আর্থিক বোঝা চাপছে সাধারণ মানুষের কাঁধে। তাই সরকারি অর্থে আয়োজিত এই ধরনের নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা ও বৈধতা নিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন।
তামিলনাড়ুর ৬ বিধায়কের ইস্তফা ও বিতর্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এআইএডিএমকে (AIADMK)-র ৬ জন বিধায়কের ইস্তফা ও দলবদলকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। অভিযোগ, দলের হুইপ অমান্য করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু স্পিকারের সিদ্ধান্ত আসার আগেই তড়িঘড়ি পদত্যাগ করে তাঁরা নতুন রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’ (TVK)-এ যোগ দেন। আবেদনকারীর মতে, এই কৌশলে সংবিধানের দলত্যাগবিরোধী আইনকেই কার্যত বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে।
উপনির্বাচনের বিপুল খরচ বহন করবে কে? আদালতে পেশ করা আবেদনে নির্বাচন কমিশনকে একটি বিশেষ ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:
-
জরিমানা ও আগাম আমানত: কোনো বিধায়ক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর সেই আসনেই ফের উপনির্বাচনে লড়তে চাইলে, নির্বাচন আয়োজনের যে বিশাল সরকারি ব্যয় হবে, সেই অর্থ তাঁকেই আগাম জমা দিতে হবে।
-
ভোটযুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা: দলত্যাগের অভিযোগে অভিযুক্ত বিধায়কদের অন্তত ৫ বছরের জন্য পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সংবিধানের দশম তফসিল ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ: ভারতীয় সংবিধানের ১০ম তফসিলে (10th Schedule) দলত্যাগের কারণে জনপ্রতিনিধিদের পদ খারিজের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তবে অযোগ্য ঘোষণার আইনি আইনি প্রক্রিয়ার আগেই পদত্যাগ করে ফের উপনির্বাচনে জিতে আসার সুযোগ থাকলে এই আইনের মূল উদ্দেশ্যই ক্ষুণ্ণ হয়।
সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, বিধানসভার সচিব এবং অভিযুক্ত ৬ প্রাক্তন বিধায়ককেও নোটিস পাঠিয়েছে। শীর্ষ আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে এখন চোখ রাখছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।