“খাস কলকাতায় মধ্যযুগীয় বর্বরতা!” প্রেমে বাধা, বাবা-ছেলেকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানোর অভিযোগে তোলপাড়!

একবিংশ শতাব্দীর খাস কলকাতা শহরে মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। শহর কলকাতার সরশুনা থানা এলাকার বসুন্ধরা পার্ক চত্বরে এক যুগলের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে, তা লজ্জিত করেছে মানবসভ্যতাকেও। প্রেম করার ‘অপরাধে’ এক যুবক ও তাঁর বাবাকে ঘরে আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতন, নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো এবং বন্ধুকে দিয়ে গুলি করানোর চেষ্টার মতো ভয়ানক অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে হামলার সূত্রপাত: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার এক তরুণ ও তরুণীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু তরুণীর বাড়ির লোকজন এই সম্পর্কে ঘোর আপত্তি জানায়। গত ২৫ অক্টোবর (রবিবার) ওই তরুণ-তরুণী একটি স্থানে বসে থাকার সময় তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন তরুণীর পরিবারের লোকজন। এরপরই শুরু হয় আসল তাণ্ডব।
নগ্ন করে ঘোরানো ও অমানবিক নির্যাতন: অভিযোগ, ওই যুবক ও তাঁর এক বন্ধুকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করেন তরুণীর বাবা ও মামা। এখানেই শেষ নয়, চরম অপমান করতে বাবা ও ছেলেকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি আরও এক ধাপ এগিয়ে যুবকের এক বন্ধুর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে বাবাকে বলা হয় নিজের ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলতে! এই লোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি হয়।
জনতার ক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই তাণ্ডবের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় ক্ষিপ্ত বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে চড়াও হন এবং অভিযুক্তদের মধ্যে যুবকের এক মামাকে ধরে ফেলে মারধর করেন। ঘটনার মূল অভিযুক্ত বাবা ও অন্যান্যরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত মামাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে সবথেকে বড় প্রশ্ন উঠছে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে—এত দীর্ঘ সময় ধরে খাস শহরের বুকে এমন নারকীয় কাণ্ড চললেও কেন সময়মতো পুলিশের দেখা মিলল না? ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে সরশুনা থানার পুলিশ।