“ল্যান্ডফলের স্থান চূড়ান্ত!” বঙ্গোপসাগরে ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, সৈকতে নামল লাল সতর্কতা!

বঙ্গোপসাগরে তীব্র শক্তি সঞ্চয় করে ফুঁসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। যদিও এর সরাসরি ল্যান্ডফল প্রতিবেশী রাজ্যে ঘটতে চলেছে, তবে এর পরোক্ষ ও মারাত্মক প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায়। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঘন্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার কড়া পূর্বাভাস জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
কোন পথে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’? আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস সোমবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, গত ৬ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার গতিবেগে পশ্চিম দিকে ধাবিত হয়েছে ‘অর্ণব’। এটি গোপালপুর থেকে ৫৮০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ৬১০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সোমবার মধ্যরাতেই এটি পুরোদস্তুর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এবং মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে আরও শক্তি বাড়িয়ে ‘অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে’ (Very Severe Cyclonic Storm) রূপ নেবে। সেই সময় সমুদ্রের বুকে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছাতে পারে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত। অবশেষে আগামী ২৮ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝে ইয়ানাম উপকূল দিয়ে এটি স্থলভাগে আছড়ে পড়বে।
দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির মেগা সতর্কতা:
-
মঙ্গলবার: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলিতে ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
বুধবার: দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির (৭০-১১০ মিমি) হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলে বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৪০-৫০ কিলোমিটার।
-
বৃহস্পতিবার (সবচেয়ে বেশি প্রভাব): পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের বেশিরভাগ জায়গায় ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে।
-
উত্তরবঙ্গ: বুধবার পর্যন্ত আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকলেও, বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে এবং শুক্রবার কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
মৎস্যজীবীদের জন্য জারি লাল সতর্কতা: সমুদ্র চরম উত্তাল থাকায় ২৬ অক্টোবর থেকেই গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে সমস্ত মৎস্যজীবীরা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে ছিলেন, তাঁদের সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই উপকূলে ফিরে আসার কঠোর নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন।