“স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়ল ভয়ানক দৃশ্য!” ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কার থেকে তেল চুইয়ে তোলপাড় আরব সাগর, ইইউ-র কড়া বার্তা!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) তৈরি হলো এক নতুন ও বড়সড় পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা। সে দেশের উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় একটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি ট্যাঙ্কার থেকে প্রচুর পরিমাণে অশোধিত তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। বিষাক্ত এই তেলের আস্তরণ ক্রমশ বিস্তৃত হয়ে উত্তর আমিরাতের জনবসতি ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ঘেরা উম্ম আল কুয়েইন উপকূলের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়ল পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহ ছবি: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মহাকাশ গবেষণা সংস্থা পরিচালিত ‘কোপার্নিকাস সেন্টিনেল-২’ (Copernicus Sentinel-2) স্যাটেলাইটের সাম্প্রতিক চিত্রে এই মারাত্মক দৃশ্য ধরা পড়েছে। গত ২৪ অক্টোবরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, জলযানটি থেকে নির্গত ঘন তেলের আস্তরণটি আগের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে সমুদ্রের জলে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সামুদ্রিক পরিবেশ, প্রবাল প্রাচীর ও বন্যজীবের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

৩টি আমিরাতে সৈকত বন্ধ ও সামুদ্রিক লাল সতর্কতা: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে আমিরাত প্রশাসন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সৈকত ও উপকূলীয় অঞ্চলে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

  • উম্ম আল কুয়েইন: উম্ম আল কুয়েইন শহরের আশপাশের সমস্ত আন্তর্জাতিক মানের সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

  • শারজা: প্রতিবেশী শারজার আল হামরিয়া সৈকতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাধারণ নাগরিক ও পর্যটকদের যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

  • রাস আল খাইমা: পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস আল খাইমার সমস্ত সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও পরিবেশ কর্তৃপক্ষ তেলের বিস্তারের মাত্রা এবং সামুদ্রিক স্রোতের কারণে এটি কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তা সার্বক্ষণিক ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে খতিয়ে দেখছে। সমুদ্র থেকে তেলের আস্তরণ সরিয়ে ফেলা এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার কাজ জোরকদমে চালানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *