“ফ্রান্সে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা!” বড়সড় সহিংসতার আশঙ্কায় কপালে হাত মাক্রোঁ সরকারের, মোতায়েন হাজার হাজার পুলিশ!

চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ ও ছাত্র আন্দোলনের জেরে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে ফ্রান্স। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফরাসি সরকার একাধিক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিলেও, অদূর ভবিষ্যতে দেশটিতে আরও মারাত্মক অস্থিরতা ও সহিংসতার জোরালো ঝুঁকির কথা খোলামেলা স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ। রাজপথের এই চরম অসন্তোষ সামাল দিতে বর্তমানে নড়েচড়ে বসেছে ফরাসি প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে গণ-বিক্ষোভ: ফ্রান্সে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল মূলত বিভিন্ন ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বানে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আন্দোলন কেবল শিক্ষার্থীদের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিবাদে শামিল হন দেশের শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন এবং বিতর্কিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ (Yellow Vest) কর্মীরাও। শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির বৈষম্যমূলক প্রক্রিয়া আমূল পরিবর্তনের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন এক বিশাল সামাজিক রূপ নিয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বচক্ষে দেখতে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি মার্সেই (Marseille) শহরে ছুটে যান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি, এই সামাজিক আন্দোলনের মূল এবং যৌক্তিক দাবিগুলির প্রতি যেন যথাযথভাবে সম্মান জানিয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।” অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু।
হ্যালোইনের রাতে আরও বড় সহিংসতার আশঙ্কা: ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই অসন্তোষের জেরে গত শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে তীব্র বিক্ষোভ হয়। বড় ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা এড়াতে গোটা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকায় আগের সপ্তাহের তুলনায় গত শনিবারের বিক্ষোভে কিছুটা সংযম দেখা গেলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগামী ৩১ অক্টোবর হ্যালোইনের সন্ধ্যা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ঐতিহ্যগতভাবেই এই দিনটিতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা থাকে। আমাদের আশঙ্কা, এবার পরিস্থিতি আরও জটিল ও হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।”
পরিসংখ্যান বলছে, গত শনিবারের বিক্ষোভ চলাকালীন সারা দেশ থেকে অন্তত এক হাজার ৪৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন শহরে সুসংগঠিত উগ্র-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে উগ্র-বামপন্থী কর্মীদের মুখোমুখি সংঘাতের বিপজ্জনক প্রবণতাও লক্ষ্য করছেন তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে ফ্রান্স।