“মক টেস্টের দিনই বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার দেহ!” ভারতের কোচিং হাবে ফের অমানবিক চাপের নির্মম শিকার?

দেশের অন্যতম প্রধান শিক্ষার হাব রাজস্থানের কোটায় একই দিনে দুই তরুণ স্বপ্নাকাঙ্ক্ষী ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ফের বড়সড় ধাক্কা খেল গোটা দেশ। সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার অমানুষিক প্রতিযোগিতা, চূড়ান্ত প্রস্তুতি এবং মানসিক চাপের ভয়ঙ্কর আবহে ঘটে যাওয়া এই জোড়া বিপর্যয় কোটা শহরজুড়ে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মৃত দুই ছাত্রের একজন জয়েন্ট এন্ট্রান্স (JEE) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যাঁর মৃত্যু প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বলেই অনুমান করছে পুলিশ। অন্যদিকে, চিকিৎসাবিদ্যার প্রবেশিকা ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে হস্টেল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার।
ঘটনা ১: পরীক্ষা এড়িয়ে চরম পদক্ষেপ জেইই পরীক্ষার্থীর প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে কোটার জওহর নগর থানা এলাকায়। মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীর বাসিন্দা ১৬ বছর বয়সী তরুণ অজিত ঢাকড় মাত্র ছ’মাস আগে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন নিয়ে কোটায় এসেছিলেন। রবিবার সকালে তাঁর কোচিং সেন্টারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মক টেস্ট থাকার কথা থাকলেও তিনি তাতে অংশ নেননি।
রবিবার রাত ন’টা নাগাদ তাঁর পেয়িং গেস্ট (PG) আবাসনের ঘর ভেতর থেকে বন্ধ দেখে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় অজিতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অজিতের কাকা সীতারাম ঢাকড় চরম হাহাকার প্রকাশ করে জানান, মৃত্যুর আগের রাতেও মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন অজিত, জানিয়েছিলেন যে সব ঠিকঠাকই চলছে। বাবার অকালপ্রয়াণের পর বড় দাদার পাশাপাশি অজিতকে নিয়েই পরিবারের বহু আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, যা এই এক লহমায় তছনছ হয়ে গেল।
ঘটনা ২: হস্টেলের বাথরুমে অচেতন নিট পরীক্ষার্থী, গাফিলতির অভিযোগ এই মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কুন্হাড়ি এলাকার ল্যান্ডমার্ক সিটির এক হস্টেল থেকে আসে দ্বিতীয় দুঃসংবাদ। বিহারের দ্বারভাঙার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী নিট পরীক্ষার্থী গৌতম কুমারকে হস্টেলের বাথরুম থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এমবিএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় হস্টেল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে গৌতমের পরিবার। তাঁদের দাবি:
-
সারাদিন জলখাবার বা দুপুরের খাবার খেতে গৌতম অনুপস্থিত থাকলেও হস্টেল কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।
-
কোচিং সেন্টার থেকেও ছাত্রের অনুপস্থিতির বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি।
-
রাত দশটা নাগাদ কোটায় থাকা এক আত্মীয় হস্টেলে খোঁজ নিতে গিয়ে বাথরুমের ভেতর গৌতমকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো হস্টেল কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে হয়তো তরুণের প্রাণ বাঁচানো যেত। কোটার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ দেবেশ ভরদ্বাজ জানান, পরিবারের লিখিত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: মূল সংবাদের মাঝে থাকা ‘আরও পড়ুন: এনটিএ ভবনের পাহারায় মোতায়েন…’ এবং ‘পাহাড়ের চূড়ায় উঠে পড়াশোনা…’ সম্পর্কিত লিংকসংক্রান্ত অংশগুলি মূল সংবাদের বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতা রক্ষা ও পেশাদার সম্পাদনার নিয়ম অনুযায়ী বাদ দেওয়া হয়েছে।)