“অস্ত্র উঁচিয়ে হরিয়ানা সীমান্তে লরি হাইজ্যাকের চেষ্টা!” সুপ্রিম কোর্টে মামলার দিনে ঋতব্রতের বিস্ফোরক অভিযোগ!

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার আগেই গায়েব করে দেওয়া হচ্ছিল লক্ষ লক্ষ নথিপত্র! সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় মারাত্মক এক অভিযোগ এনে চরম শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। সুপ্রিম কোর্টে মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানির দিনই ঠিক কীভাবে অস্ত্র দেখিয়ে হলফনামা বোঝাই আস্ত লরি ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন ঋত-শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান।
অস্ত্র উঁচিয়ে হরিয়ানা সীমান্তে লরি হাইজ্যাকের রোমহর্ষক ঘটনা: বিধায়ক আখরুজ্জামান বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য গাড়িতে করে কয়েক লক্ষ দলীয় হলফনামা দিল্লি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই সময়েই হরিয়ানা সীমান্তে দুষ্কৃতীরা অস্ত্র দেখিয়ে লরিটি অন্য রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং হাইজ্যাক করার চেষ্টা করে। তবে লরির ঠিক পেছনেই দলের ক্যাডার ও নেতাদের নিজস্ব গাড়ি থাকায় এবং তাঁদের সময়োপযোগী তৎপরতায় সেই অপচেষ্টা ভেস্তে যায়।
“প্রতিপক্ষ কালীঘাট, ওদের কাছে পর্যাপ্ত কর্মীই নেই!”— ক্ষুব্ধ আক্রমণ: কাদের দিকে এই নথিপত্র চুরির অভিযোগের আঙুল? সরাসরি প্রশ্ন করা হলে আখরুজ্জামান স্পষ্ট জানান:
“আমাদের মূল প্রতিপক্ষ কালীঘাট। আমাদের হাতে আজ কয়েক লক্ষ নিষ্ঠাবান কর্মীর হলফনামা রয়েছে, কিন্তু কালীঘাটের কাছে এত কর্মীই নেই! তাই বাধ্য হয়ে ওরাই হাইজ্যাক করার এই নীলক নকশা বানিয়েছিল।”
তিনি আরও দাবি করেন, “মমতা-তৃণমূলের” হাতে মেরেকেটে মাত্র কয়েকশো বা কয়েক হাজার হলফনামা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে ফাইল খুললে এবং হিয়ারিং শুরু হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কাদের পাশে আসল সংখ্যা রয়েছে।
তীব্র কটাক্ষ ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে তোপ দেগে আখরুজ্জামান আরও বলেন, “জোর জবরদস্তি করে ভুয়া এফিডেভিট তৈরি করার কালচার ওঁদেরই আছে। আমরা ওঁদের কাছে রাজনীতির পাঠ নিলেও এই ধরনের শিক্ষা অন্তত নিইনি। পুলিশকে ব্যবহার করে জোর করে কারও থেকে সই বা হলফনামা নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ দিয়ে দল চালালে আজ কুণাল ঘোষদের পাশে ওই ক’জন বিধায়কও থাকতেন না।”
উল্লেখ্য, সোমবার এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত ঋতব্রত-শিবিরকে নির্বাচন কমিশনে নিজেদের বক্তব্য ও হলফনামা পেশ করার জন্য আরও ১০ দিন সময় মঞ্জুর করেছে। নথিপত্র ছিনতাইয়ের এই নজিরবিহীন অভিযোগ কেন্দ্র করে এখন তোলপাড় পুরো বাংলা তথা দিল্লির দরবার।