“দশমীর রাতেই রক্তের হোলি!” বজবজে বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি SSKM-এ!

সামনেই পুরভোট, আর তার ঠিক আগেই আবার প্রকাশ্যে চলে এলো ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল। উৎসবের মেজাজের মধ্যেই দলের কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্বদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেবাশিস পাল নামের ওই জখম বিজেপি কর্মী বর্তমানে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দশমীর রাতে বজবজ ২ নম্বর ব্লকের ডোঙারিয়া স্কুলমোড় এলাকায় এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হিংসার বিস্ফোরক অভিযোগ: ঘটনার সূত্রপাত এবং অভিযোগের তীর বজবজের ৫ নম্বর মণ্ডল সভাপতি শুভঙ্কর অধিকারী ও তাঁর অনুগামীদের দিকে। আক্রান্ত গোষ্ঠীর দাবি, শুভঙ্কর ও তাঁর দলবল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি ও অরাজকতা চালিয়ে আসছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মারধর, অশালীন ভাষায় কটূক্তি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে সরাসরি আঘাত করার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের একাংশের সাফ বক্তব্য— “আমরা সক্রিয়ভাবে বিজেপি করি, কিন্তু তোলাবাজ মণ্ডল সভাপতির সাথে কোনোভাবেই নেই।”

পাল্টা তোপ ও পুলিশি পদক্ষেপ: নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত তোলাবাজি ও হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মণ্ডল সভাপতি শুভঙ্কর অধিকারী। পাল্টা তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, “অভিযোগকারীরা ৪ মে-র পর দলে যোগ দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করুক।”

ঘটনায় নোদাখালি থানায় মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই দেব অধিকারী নামে শুভঙ্করের এক ঘনিষ্ঠ অনুগামীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতকে আদালতে তুলে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে জোরকদমে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে নোদাখালি থানার পুলিশ।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *