“একধাক্কায় দাম কমলো অপরিশোধিত তেলের!” আমেরিকা-ইরান আলোচনার টেবিলে আসতেই বড় স্বস্তি বাজারে?

বিশ্ববাজারে কিছুটা হলেও কমলো বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক শান্তি আলোচনার জল্পনা উস্কে উঠতেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড়সড় সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় কিছুটা লাগাম পড়েছে। তবে এর মাঝেও সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং তেল পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটগুলিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জট সম্পূর্ণ কাটেনি।
সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের নতুন দর: ২৬ অক্টোবর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে দুই প্রধান বেঞ্চমার্ক তেলের দামেই পতন লক্ষ্য করা গেছে:
-
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): ব্যারেলপ্রতি ১.৪৯ ডলার (১.২৮%) কমে বর্তমানে ১১৫.২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
-
ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude): আমেরিকান এই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৭৬ ডলার (১.৭%) কমে হয়েছে ১০১.৫১ ডলার।
রয়টার্সের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবারের লেনদেনের শুরুতে এই মূল্য হ্রাস নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে স্বস্তির খবর থাকলেও গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দর প্রায় ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দর ২.৩ শতাংশ বেড়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক এই দরপতনের পরেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সামগ্রিকভাবে এখনও বেশ উচ্চস্তরেই অবস্থান করছে।
দাম কমার আসল কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি: আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দরপতনের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। সংঘাত এড়াতে কাতারের প্রতিনিধিরা রবিবার তেহরানে পৌঁছন। এর পাশাপাশি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদেরও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই কূটনৈতিক সক্রিয়তা আন্তর্জাতিক বাজারের বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের একাংশের ধারণা, আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক পরিবহণ ব্যবস্থা সুগম হবে। তবে অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে না দেওয়ায় বাজার বিশেষজ্ঞ ও আমজনতার মধ্যে উদ্বেগ কিন্তু এখনও রয়েই গেছে।