“নথিপত্র লুটের চেষ্টা ব্যর্থ!” নির্বাচন কমিশনে হলফনামা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগের মুখে সুপ্রিম রায়!

জোড়াফুলের আসল মালিক কে? তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিচয়, ঐতিহ্যবাহী দলীয় প্রতীক ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ এবং আইনি নথিপত্র কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এই প্রশ্নকে ঘিরে ফের চরম উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। ‘মমতা তৃণমূল’ (কালীঘাট শিবির) বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর মধ্যে আইনি ও কৌশলগত সংঘাত এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে।
নথিপত্র ও ট্রাক ছিনতাইয়ের তোলপাড় ফেলা অভিযোগ:নির্বাচন কমিশনে হলফনামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ পৌঁছেছে চরমে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিস্ফোরক দাবি, দিল্লিগামী তাঁদের হলফনামা বোঝাই ট্রাক আটকে নথিপত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালানো হয়েছে। হরিয়ানার কাছে ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানো কালীঘাট শিবির তাঁদের সড়কপথের নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করেছিল, তবে কর্মীদের তৎপরতায় তা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
স্ট্যাম্প পেপার বিতর্ক ও পাল্টা অভিযোগ: অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাল্টা সরব হয়েছেন নথিপত্র তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে। তাঁর দাবি, তাঁদের শিবিরের আইনজীবীদের যাতে প্রয়োজনীয় সরকারি স্ট্যাম্প পেপার না দেওয়া হয়, তার জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করে একতরফা চাপ তৈরি করা হচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের বিরোধ কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নথিপত্র জোগাড়ের আইনি প্রক্রিয়াতেও বড়সড় জট তৈরি করেছে।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা ও বাড়তি ১০ দিনের নির্দেশ:এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব নথি জমা দিতে না পারায় আদালতের কাছে আরও সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানায় ঋতব্রত-শিবির। শীর্ষ আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখে ঋতব্রত-শিবিরকে হলফনামা পেশের জন্য অতিরিক্ত ১০ দিন সময় মঞ্জুর করেছে। সেই হলফনামা জমা পড়ার পর পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে মমতা-শিবিরও তাদের পাল্টা বক্তব্য ও আইনি নথি পেশ করার সুযোগ পাবে।
আসন্ন পুরভোটের মুখে তৃণমূলের আসল প্রতীক ও দলীয় নথির আইনি মালিকানা কার হাতে যাবে—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি