“উত্তম-প্রশান্তকে বিজেপিতে ঢুকতে দেব না!” ব্যারাকপুরে মণীশ হত্যা মামলায় আবার গৃহযুদ্ধ!

বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আবারও প্রকাশ্যে এল বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং। অভিযুক্তদের সাথে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের এক মঞ্চে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন কৌস্তভ। তবে অর্জুন সিংও ছেড়ে কথা না বলে তা সোজা উড়িয়ে দিয়েছেন।
“এমন ভুল করলে আমাদের মুখ পোড়ে”— ক্ষুব্ধ কৌস্তভ: মণীশ শুক্লা হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের সাথে অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতি প্রসঙ্গে সরব হয়ে কসবুর বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী বলেন:
“মণীশ শুক্লার বাবা যেখানে হত্যা মামলায় উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীর নাম লিখছেন, তাঁরা কীভাবে আমাদের নেতাদের পাশে বসে ছবি তোলেন বা একই মঞ্চে থাকেন? অর্জুনবাবুর প্রতি আমার কোনো ব্যক্তিগত রাগ বা ক্ষোভ নেই। হাতজোড় করে অনুরোধ করব—আপনি দলের বড় নেতা ও অভিভাবক। কিন্তু আপনি যদি মাঝেমধ্যে এমন ভুলচুক করে ফেলেন, তাহলে জনগণের কাছে আমাদের মুখ পোড়ে এবং আমরা ছোট হই।”
ব্যারাকপুরের বিধায়ক হিসেবে স্থানীয় মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে দাবি করে কৌস্তভ আরও বলেন, “মানুষ প্রশ্ন করছেন, তোমাদের নেতারা মণীশ হত্যার যুক্তদের নিয়ে কেন মঞ্চে বসে আছেন? আমি পরিষ্কার বলছি, উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে কিছুতেই বিজেপিতে আসতে দেব না।”
“কীভাবে রাজনীতি করতে হয় জানি”— পাল্টা তোপ অর্জুন সিংয়ের: কৌস্তভ বাগচীর এই সব অভিযোগ ও ক্ষোভকে আমল দিতে নারাজ রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং। পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি সংক্ষেপে ও কড়া সুরে বলেন, “বিধায়কের বক্তব্যকে আমি বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে রাজি নই। অর্জুন সিং খুব ভালো করেই জানে কীভাবে রাজনীতি করতে হয়।”
হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস ও পরিবারের দীর্ঘ আইনি লড়াই: উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর টিটাগড় থানার ঠিক ১০০ মিটারের মধ্যে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে খুন করা হয় উদীয়মান বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৪ জন এখনও জেলে রয়েছেন। নিহত মণীশের বাবা চন্দ্রমণি শুক্লা ক্ষোভের সাথে জানান, “মণীশ বিজেপি করত বলেই এই রাজনৈতিক খুন। সিআইডি রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বাড়ির পাশ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। বিজেপি করার জন্য যে ছেলেকে হারাতে হলো, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর যদি তার বিচার না পাই, তবে আর কোথায় পাব? এই বিচার আমরা আদায় করেই ছাড়ব।”
সব মিলিয়ে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও অভিযুক্তদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিজেপি নেতাদের মধ্যে চলা এই কাদা ছোড়াছুড়ি ব্যারাকপুরের রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা তৈরি করেছে।