“নাগরিকরা বাড়তি সুবিধা তো দূর, আরও বিপদে পড়বেন!” ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সরাসরি ধাক্কা প্রশাসনের?

কালীপুজোর পরেই রাজ্যে বেজে যাওয়ার কথা কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটের দামামা। ঠিক তার আগেই চরম আইনি জট তৈরি হলো রাজনৈতিক মহলে। কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন বা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হলো। বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই এই মামলার সম্ভাব্য শুনানির দিন ধারቅ হতে পারে।

মামলার মূল ভিত্তি ও অভিযোগ: কসবকার এক বাসিন্দার করা এই মামলায় প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি—

  • কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডকে বাড়িয়ে একলাফে ২০৯টি করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ একতরফা এবং অযৌক্তিক।

  • ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনো বৈজ্ঞানিক বা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি মানা হয়নি, বরং খামখেয়ালি ও মর্জিমাফিক এই বিন্যাস করা হয়েছে।

  • এতদিন ১৪৪টি ওয়ার্ডের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবা ঠিকঠাকই মিলছিল। অতিরিক্ত ৬৫টি ওয়ার্ড বাড়ার ফলে শহরবাসীরা আদৌ কোনো বাড়তি সুবিধা পাবেন না, বরং দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির মুখে পড়বেন—এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও পুরভোটের প্রস্তুতি:নভেম্বরের শেষে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় ভোট হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ায় সব রাজনৈতিক দলই ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে। একদিকে শাসকদলের প্রস্তুতি বৈঠক শেষ, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও রণকৌশল চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে। এমন একটি حساس সময়ে ডিলিমিটেশন নিয়ে এই আইনি লড়াই ভোট প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। উচ্চ আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ও শহরবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *