ভোট হারলেন তো কী হয়েছে! গ্রামবাসী মিলে উপহার দিলেন ২৫ লাখ টাকা! রাজস্থানের এই ঘটনা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে

রাজনীতি মানেই কি কেবল হিংসা, কুৎসা আর হার-জিতের লড়াই? এই প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে এক মানবিক ও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাজস্থানের নাগৌর জেলার মোড়ী গ্রামের বাসিন্দারা। পঞ্চায়েত নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর এক সাধারণ কৃষক পরিবারের প্রার্থীর পাশে যেভাবে পুরো গ্রাম এসে দাঁড়াল, তার চর্চা এখন কেবল নাগৌর নয়, পুরো রাজ্যজুড়ে।
মাত্র ১৬২ ভোটে হার, তবুও ভালোবাসার কমতি নেই
নাগৌর জেলার মুণ্ডবা পঞ্চায়েত সমিতির ভদৌরা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোড়ী গ্রামের বাসিন্দা চিড়ি দেবী। স্বামী হেমারাম রাও সাধারণ কৃষক। এলাকায় তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনসেবার কথা মাথায় রেখেই গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে চিড়ি দেবীকে সরপঞ্চ পদে লড়ার অনুরোধ জানান।
গ্রামের ৩৬ কওমের মানুষ জাতপাতের ভেদাভেদ ভুলে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয় পাননি তিনি। তাঁর প্রতিপক্ষ, অবসরপ্রাপ্ত থানাদার মাধোসিংহের পুত্রবধূ গিরিজা সান্দু পেয়েছেন ১৩১৭ ভোট, আর চিড়ি দেবী পেয়েছেন ১১৫৫ ভোট। মাত্র ১৬২ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি।
চান্দা তুলে ২৫ লাখ টাকা উপহার গ্রামবাসীদের
নির্বাচনে হারার পর কৃষক পরিবারটি যাতে কোনো অর্থনৈতিক সংকটে না পড়ে, সেকথা ভেবেই অভিনব এক উদ্যোগ নেন গ্রামের মানুষ। একটি জনসভায় গ্রামের সবাই মিলে পারস্পরিক সহযোগিতায় মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে তুলে ফেলেন নগদ ২৫ লাখ টাকা!
এরপর ঢোল-নगाড়া বাজিয়ে, গান গেয়ে শত শত গ্রামবাসী গাড়ির কনভয় নিয়ে সোজা হাজির হন হেমারাম রাওয়ের বাড়িতে। ফুলমালা দিয়ে বরণ করার পর তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই ২৫ লাখ টাকার অনুদান। গ্রামবাসীর এমন নজিরবিহীন ভালোবাসা দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন হেমারাম। তিনি জানান, ভোটে হারার দুঃখ থাকলেও গ্রামের মানুষের এই অভূতপূর্ব সম্মান সমস্ত কষ্ট মুছে দিয়েছে।
কেন এই সম্মান?
গ্রামবাসীদের মতে, হেমারাম রাও ও তাঁর পরিবার অতীতে সবসময় গ্রামের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। দু’বছর আগে তিনি গ্রামের গোশালায় একটি ট্র্যাক্টর দান করেছিলেন। পাশাপাশি গ্রামে জলছত্র (প্যায়াউ) নির্মাণ এবং বোরওয়েল করানোর মতো মহৎ কাজও করেছিলেন।
নির্বাচনে হার-জিতের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রামের ভাইচারা ও সম্প্রীতিই যে সবার উপরে, রাজস্থানের এই ছোট গ্রামটি তা প্রমাণ করে দিল। এই অনুষ্ঠানে জয়ী ওয়ার্ড পঞ্চদেরও সংবর্ধনা জানানো হয়, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য বার্তা দিল।