প্যাকেট না খুলেই ধরা পড়বে জালিয়াতি! আইফোন ফেরত দিতে আসা চোরদের রুখতে অ্যাপলের মহাস্ত্র

নিজেদের রিটেইল স্টোরে ক্রমবর্ধমান চুরি এবং জালিয়াতি রুখতে এক চরম যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল টেক জায়ান্ট অ্যাপল (Apple)। এখন থেকে কোনো কাস্টমার আইফোন ফেরত (Return) দিতে এলে বক্সে হাত না দিয়েই বা সিল করা প্যাকেট না খুলেই অ্যাপল কর্মকর্তা বুঝে যাবেন ভেতরে আসল ফোনটি সঠিক অবস্থায় আছে নাকি জালিয়াতি করা হয়েছে। এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক হাইটেক স্ক্যানিং সিস্টেম চালু করেছে সংস্থাটি।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হলো অ্যাপলকে?
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অ্যাপলের অফিশিয়াল স্টোরগুলোতে একের পর এক মারাত্মক জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসছিল। অভিযোগ উঠছিল, কিছু অসাধু গ্রাহক নতুন আইফোন বা অন্য কোনো অ্যাপল প্রোডাক্ট কেনার পর চতুরতার সঙ্গে তার ভেতরের আসল পার্টস, দামী অ্যাক্সেসরিজ এমনকি পুরো ডিভাইসটিই খুলে বদলে ফেলত। তারপর সেই বাক্সটিকে সু নিখুঁতভাবে নতুন করে সিল মেরে স্টোরে ফেরত দিয়ে টাকা রিফান্ড নিয়ে নিত। ওপর থেকে দেখে বাক্সে বোঝার বিন্দুমাত্র উপায় থাকত না যে ভেতরের আসল জিনিস গায়েব হয়ে গেছে।

পুরোনো নিয়মে অ্যাপলের হচ্ছিল কোটি কোটি টাকার ক্ষতি
এই বিশাল কারচুপি এবং চুরির চক্র রুখতে অ্যাপল প্রথমে নির্দেশ দিয়েছিল ফেরত আসা সমস্ত বক্স খুলে পরীক্ষা করার। এই নিয়মে চোর ধরা পড়লেও তৈরি হচ্ছিল অন্য এক বড় বিপদ। আসল ও ভালো আইফোনের প্যাকেট খুলে ফেলার পর সেটিকে আর ‘নতুন’ হিসেবে অন্য কোনো গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা যাচ্ছিল না। সেই আনপ্যাক করা ফোনগুলোকে ফেরত পাঠাতে হচ্ছিল গুদামে। এর ফলে একদিকে যেমন অ্যাপলের প্রচুর সময় ও সম্পদ অপচয় হচ্ছিল, তেমনই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছিল।

বক্স না খুলেই হবে ‘রোগ নির্ণয়’!
এই দুই জোড়া সমস্যা এক ঝটকায় মেটাতে অ্যাপল নিয়ে এলো নতুন এই অ্যান্টি-থেফ্ট স্ক্যানার ডিভাইস। বক্সে থাকা অবস্থাতেই আইফোনের ওপর ডায়াগনস্টিক টেস্ট চালাবে এই যন্ত্রটি। ফোনটির ভেতরের পার্টস ঠিক আছে কি না বা যন্ত্রাংশ নিয়ে কোনো কারচুপি করা হয়েছে কি না, তা সঙ্গে সঙ্গে স্ক্যানারের স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। সবকিছু সঠিক থাকলে বাক্স না খুলেই সেটিকে ফের বিক্রির জন্য কাউন্টারে পাঠানো সম্ভব হবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই স্ক্যানারে অ্যাপলের বিখ্যাত ‘Presto’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই অ্যাপল বক্স না খুলে নতুন আইফোনের সফ্টওয়্যার আপডেট দিয়ে থাকে। চলতি মাসের শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন অ্যাপল রিটেইল স্টোরে এই স্ক্যানার পাঠানো শুরু হয়েছে এবং কাজও চালু হয়ে গেছে। অ্যাপলের আশা, এই নতুন মাস্টারস্ট্রোকে জালিয়াতি একেবারে শূন্যে নেমে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *