ভিডিও কলে বিয়ের অন্তিম শর্ত! রাজি না হতেই মাঝরাতে টেকির চরম পদক্ষেপে কাঁপল আইটি হাব

হায়দরাবাদের হাইটেক আইটি করিডোরে ঘটে গেল এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এক সহকর্মীকে ভিডিও কলে বিয়ের জন্য চূড়ান্ত চাপ দেওয়া এবং সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাঝরাতেই বহুতল ফ্ল্যাটের বন্ধ ঘরে চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন ২৯ বছর বয়সি এক তরুণী তথ্যপ্রযুক্তি (IT) কর্মী। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা অর্চনার এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে বর্তমানে তীব্র শোরগোল এবং চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা তেলঙ্গানা এবং বিনোদন ও টেক দুনিয়ায়। রবিবার ভোরবেলায় তথ্যপ্রযুক্তি হাব এলাকা সংলগ্ন মাইন্ডস্পেসের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে দ্রুত ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম অর্চনা চৌধুরী মালিক (২৯)। তিনি পেশায় একজন উচ্চপদস্থ সফ্টওয়্যার প্রকৌশলী এবং কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে হায়দরাবাদের বিখ্যাত মাইন্ডস্পেস আইটি করিডোর সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, রবিবার গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় রাত আড়াইটে নাগাদ। সেই সময়ে অর্চনা নিজের এক পুরুষ সহকর্মীকে ভিডিও কল করেন। সেই মুহূর্তটিতে ওই যুবক একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে নিজের মায়ের সঙ্গে ব্যস্ত ছিলেন। ভিডিও কলে কথোপকথন চলাকালীনই অর্চনা ওই সহকর্মীকে অবিলম্বে বিয়ের সিদ্ধান্তের জন্য প্রচণ্ড জোরজুলুম করতে শুরু করেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সহকর্মী যুবকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ইতিবাচক আশ্বাস না পেয়ে অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েন ওই তরুণী। তিনি ভিডিও কলেই হুমকি দেন যে, ওই যুবক যদি এখনই তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না দেন, তবে তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বুঝে ওই সহকর্মী বারবার অর্চনাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং কল কেটে যাওয়ার পর একাধিকবার তাঁকে পালটা ফোন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অর্চনার তরফ থেকে আর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। আতঙ্কিত হয়ে ওই সহকর্মী ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তড়িঘড়ি অর্চনার ফ্ল্যাটে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান যে, ফ্ল্যাটের মূল দরজা ভেতর থেকে শক্ত করে বন্ধ করা রয়েছে। বারবার কড়া নাড়ার পরও কোনো সাড়া না মেলায় তিনি আর দেরি না করে স্থানীয় থানায় খবর দেন।

খবর পেয়ে সাজেটি ও স্থানীয় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ভোরবেলায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে অর্চনার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। দেহটি উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে থাকা নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে ওই তরুণী সহকর্মীকে তড়িঘড়ি বিয়ের জন্য এমন চরম মানসিক চাপ দিচ্ছিলেন এবং তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক কেমন ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আত্মহত্যার পেছনে কোনো সরাসরি প্ররোচনা রয়েছে কি না বা এর নেপথ্যে আর কোনো মানসিক নির্যাতন বা জটিল কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গোটা শহরের কর্মজীবী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এক গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *