শুকিয়ে কাঠ ফসলের খেত! রাজস্থান সরকারের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিরাট সিদ্ধান্ত

বর্ষার মরশুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাতের মারাত্মক ঘাটতির জেরে তীব্র খরা পরিস্থিতির মুখে পড়েছে রাজস্থান। বৃষ্টির চরম অভাবে রাজ্যের একাধিক অঞ্চলে ফসলের খেত শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন পানীয় জলের অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে গবাদি পশুর খাদ্যের অভাবে হাহাকার পড়ে গিয়েছে গ্রামগুলিতে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজস্থান সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে ১৪টি জেলার ৮০টি তহসিলকে খরাকবলিত এলাকা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত রবিবার রাজ্য প্রশাসনের জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দ্রুত ত্রাণকার্য চালানো, পশুখাদ্য ও পানীয় জলের সংস্থান এবং দুর্গত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
বিশেষ করে পশ্চিম রাজস্থানের জেলাগুলিতে এই খরার প্রকোপ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পালি, জয়সলমের, জালোর, বারমের, বালোত্রা এবং যোধপুরের মতো জেলাগুলিতে এই বছর প্রত্যাশার তুলনায় অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি অনাবৃষ্টির কারণে খারিফ ফসলের অপরিসীম ক্ষতি হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষক সমাজকে মারাত্মক আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অঞ্চলের পশুপালকরাও নিজেদের গবাদি পশুর ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মেটাতে চরম সমস্যায় পড়ছেন। রাজস্থান রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরিস্থিতি মোকাবিলায় যোধপুর জেলার ১২টি তহসিলকে খরাকবলিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জালোর ও বারমের জেলার ১০টি করে তহসিল, বালোত্রার ৯টি, পালি জেলার ৮টি এবং ডুঙ্গারপুর ও জয়সলমের জেলার ৭টি করে তহসিল এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বাঁশওয়ারার ৩টি, বিওয়ার, চুরু ও বিকানেরের ২ট করে তহসিল এবং নাগৌর ও সিরোহি জেলার একটি করে তহসিলকেও খরাকবলিত বলে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। নবগঠিত ফালোদি জেলার ৭টি তহসিলও এই জরুরি তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
সরকারের পর্যালোচনায় প্রতিটি তহসিলের বৃষ্টিপাতের ঘাটতি, বিদ্যমান ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এবং ভূগর্ভস্থ জলের উপস্থিতিকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন তহসিলকে ‘তীব্র’ এবং ‘মাঝারি’ খরাকবলিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বাঁশওয়ারা জেলার গড়ি ও অর্থুনা এবং বারমের জেলার গাদরা রোড, চোতান, বাইতু, সেদওয়া, রামসার, শিব ও ধানাউ-সহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলকে তীব্র খরাকবলিত এলাকা বলা হয়েছে। বালোত্রার গুধামালানি ও পচপাদ্রা, চুরুর রাজগড়, ডুঙ্গারপুরের আসপুর ও সাগওয়ারা এবং জয়সলমেরের ফতেহগড়, ভানিয়ানা, সাম ও রামগড় তহসিলেও জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে জালোর ও যোধপুরের সিংহভাগ তহসিল তীব্র খরাকবলিত হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলিকে অবিলম্বে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান শুরু করার পূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে রাজস্থান সরকার।