ব্যবসায়ীদের অনুরোধেও কেন পিছু হটলেন না খড়গে? ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে কী ঘটতে চলেছে?

ব্যবসায়ীদের প্রবল আপত্তি এবং অনুরোধ থাকা সত্ত্বেও ১ নভেম্বরের নির্ধারিত মহার্যালির তারিখে কোনো পরিবর্তন আনল না কংগ্রেস। দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ জন মার্চ ও মহার্যালির জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (টুইটার) একটি পোস্ট শেয়ার করে খড়গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। নির্বাচন কমিশন ও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলে খড়গে বলেন, “ভোট চুরির একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসা সত্ত্বেও সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেষ কুমারকে রক্ষা করার জন্য সমস্ত রকম কৌশল অবলম্বন করছে।”

নির্বাচন কমিশনকে নিশানা খড়গের
কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সফ্টওয়্যারের তথ্য আরটিআই-এর (RTI) মাধ্যমে জানতে চাওয়া হলেও ‘ট্রেড সিক্রেটস’ (Trade Secrets)-এর দোহাই দিয়ে উত্তর এড়িয়ে গেছে কমিশন। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে ১৬.১৮ লক্ষ ‘ফর্ম-৬’ আবেদনের তথ্য গোপন রাখা এবং পিলিভীতে ১০,৪৭০টি ভোটার রেকর্ডে চরম গরমিল ধরা পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের ৩টি মূল দাবি:
১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেষ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া ২০২৩ সালের বিতর্কিত আইন বাতিল করতে হবে।
২. এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৩. আগামী সমস্ত নির্বাচন ইভিএম-এর পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে ব্যালট পেপারে সম্পন্ন করতে হবে।

কেন চিন্তিত দিল্লির ব্যবসায়ীরা?
এর আগে কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CTI)-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল খড়গেকে চিঠি লিখে এই র্যালির তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের যুক্তি ছিল, উৎসবের মরসুমে এই ধরনের বিশাল র্যালির ফলে মধ্য দিল্লি থমকে যাবে। বিশেষ করে ধনতেরাসের সময় দিল্লিতে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

সিটিআই-এর তরফে সতর্ক করে জানানো হয়েছিল যে, অক্টোবর মাসের শুরুতেই ট্রাফিক ডাইভারশনের কারণে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। উপরন্তু, রামলীলা ময়দানের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে চাঁদনি চক, সদর বাজার, খারি বাওলি, কারোল বাগের মতো দিল্লির ২০টি বড় বাজার রয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী ও যান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে সবচেয়ে লাভজনক মরসুমে গ্রাহকরা বাজারে পৌঁছাতে পারবেন না, যার ফলে এক বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের এই উদ্বেগে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে আলোচনার আশ্বাস দিলেও, শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান কঠোর রেখে ১ নভেম্বরের মহার্যালির ডাকেই অনড় রইলেন কংগ্রেস সভাপতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *