লক্ষ্মীপুজোয় সুদীপের বাড়ি সোজা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! ‘পদ্মফুল’ হাতে দিয়ে কী বললেন তিনি?

লক্ষ্মীপুজোর পবিত্র সন্ধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে এক অনাবিল চাঞ্চল্য! সমস্ত জল্পনাকে সত্যি করে একেবারে বিজয়ার মেজাজে সোজা এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তালতলার বাড়িতে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সন্ধ্যা ঠিক ৬টা ৪০ নাগাদ সুদীপের বাসভবনে পৌঁছন তিনি এবং সেখানে প্রায় আধ ঘণ্টা সময় কাটান। পুজো শেষে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই সাক্ষাতের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই; এটি সম্পূর্ণ সৌজন্য এবং বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির মেলবন্ধন।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অত্যন্ত খোলামেলা মেজাজে জানান, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখন এনডিএ-র শরিক। তাঁর বিশেষ নিমন্ত্রণ আমি রাখব না কেন? প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁকে ডেকে ব্রেকফাস্ট করিয়েছেন, সুতরাং তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোয় আসার মধ্যে তো কোনো সমস্যাই নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “এর মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই। উনি দেশের উন্নতির স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছেন। সুদীপবাবু নিজে আমাকে ডেকেছিলেন। গতকাল উনি আমাকে নিজে দু’বার মেসেজ করে বলেছিলেন রাত আটটায় এসে খাওয়া-দাওয়া করতে। তবে আমি কিছুটা আগেই চলে এসেছি। আমি এলাম, হাতে পদ্মফুল তুলে দিলাম। বৌদি পরম যত্নে নারকেলের নাড়ু খাইয়েছেন। আমাকে মোট চারটে নাড়ু দিয়েছিলেন, আমি তার মধ্যে দু’টো খেয়েছি।”

বাঙালি সংস্কৃতির কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নয়নাদিদের পরিবারের শিকড় তো বাংলাদেশে। আমার মায়ের পরিবারও বাংলাদেশ থেকেই এসেছে। এটা তো আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতির অঙ্গ। সেই ঐতিহ্য পালন করতেই আমি এখানে এসেছি।” তবে সৌজন্যের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি। শুভেন্দুর সংযোজন, “এখান থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরেই বাড়ি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। অথচ সুদীপদা তো তাঁকে প্রতিবারই পুজোয় নিমন্ত্রণ করতেন, তিনি কিন্তু কোনোদিন আসেননি! যাঁদের অবদানে তিনি একসময় মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন, তাঁদের সেই সাধারণ সৌজন্যটুকুও তিনি রক্ষা করেননি। এই বামেরা আর তৃণমূলই তো আসলে রাজ্যের রাজনীতি থেকে সেই সৌজন্যবোধ তুলে দিয়েছিল।”

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন: মুখ্যমন্ত্রী যতই একে ‘সৌজন্যের সাক্ষাৎ’ বলুন না কেন, রাজ্য রাজনীতিতে এর তাৎপর্য কিন্তু অন্য কথা বলছে। আসন্ন পুরভোটের প্রাক্কালে এনসিপিআই-এর সঙ্গে বিজেপির কোনো গোপন রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার অঙ্ক কষা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। লক্ষ্মীপুজোর এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ যে নিছক উৎসবের মিষ্টিমুখেই আটকে নেই, বরং এর নেপথ্যে অনেক বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *