মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ৭ ঘণ্টা নিখোঁজ! শাবককে যেভাবে জড়িয়ে ধরল মা হাতি, দেখুন ভিডিও

মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একরত্তি এক হাতির শাবককে নিরাপদেই ফিরিয়ে দেওয়ার এক হৃদয়বিদারক অথচ স্বস্তিদায়ক ঘটনা সামনে এল। দীর্ঘ সাত ঘণ্টার দীর্ঘ ও নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে জঙ্গলের পথে নিজের মায়ের সান্নিধ্যে ফিরে গেল ছোট্ট হাতিটি। মা ও সন্তানের এই আবেগঘন পুনর্মিলনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার পরই তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। বনকর্মীদের এই অসাধারণ তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতীয় বন পরিষেবার (IFS) খ্যাতনামা আধিকারিক পারভীন কাসওয়ানও।
ঠিক কী ঘটেছিল কার্শিয়াঙে?
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কার্শিয়াঙের একটি স্থানীয় জলাধারকে কেন্দ্র করে। বন দফতর সূত্রে খবর, হঠাৎই ওই জলাধারে এসে পড়েছিল একটি মা হাতি ও তার কোলের শাবক। স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসতেই খবর দেওয়া হয় বন দফতরে। তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনকর্মীরা। তাঁদের দীর্ঘ ও সাহসিকতাপূর্ণ তৎপরতায় জলাধার থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় হাতি দু’টিকে।
কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরেই। হুড়োহুড়ির জেরে কোনো এক ফাঁকে মায়ের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ছোট্ট শাবকটি।
What a beautiful video.
A mother and calf fell into a water tank. Both were rescued but during rescue the calf got separated from mother. Kurseong division staff brilliantly tracked the mother. It took 7 hours but they reunited them.
Reaction of mother in last !! Gods work. https://t.co/CfsG1Ltb0q
— Parveen Kaswan, IFS (@ParveenKaswan) October 25, 2026
দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার টানটান উদ্ধার অভিযান
মা-হারা একরত্তি শাবকটিকে নিরাপদে তার পরিবার ও মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি বনকর্মীরা। শুরু হয় সাঁড়াশি তল্লাশি। কার্শিয়াঙের দুর্গম জঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা ধরে চলে এই খোঁজ। অবশেষে বনকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মা হাতির সন্ধান মেলে এবং শাবকটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সামনে আসা সেই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, মায়ের সন্ধান পেতেই খুশিতে ও স্বস্তিতে ছুটে গিয়ে মায়ের গায়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে ছোট্ট শাবকটি। বন্যপ্রাণের এই নিখাদ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন নেটদুনিয়ার হাজার হাজার মানুষ। বনকর্মীদের এই মানবিক ও সফল প্রচেষ্টার প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা।