“গ্রেটার বাংলাদেশ বানানোর পরিকল্পনা ছিল!”-তমলুকে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী

তমলুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফের রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর তোপ। রাজ্য সরকারের তোষণ রাজনীতি, অতীতের শাসনব্যবস্থা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলের বিবাদ নিয়ে শাসকদল ও মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।

‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানানোর পরিকল্পনা ও তোষণ রাজনীতির সমালোচনা

তমলুকের অনুষ্ঠান থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের শাসনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বা বৃহত্তর বাংলাদেশে পরিণত করার ছক কষা হয়েছিল। তোষণ রাজনীতির চরম সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই বর্তমান শাসক দলের। ‘জয় বাংলা’ তো মূলতঃ বাংলাদেশের স্লোগান।”

পাশাপাশি রাজ্যে সার্বিক রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সুর ফুটিয়ে শুভেন্দু জানান, বিজেপি বিপুল জনসমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেও জয় সুনিশ্চিত করেছে। আগামী নির্বাচনগুলিতে রাজ্যজুড়ে ৬০ শতাংশেরও বেশি আসনে জয়লাভের ব্যাপারে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ফিরহাদ হাকিম মন্তব্য করেছিলেন, নেত্রী “ভক্তের চেয়ে রক্তের সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।” ফিরহাদের এই অভিমানী সুরের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দু সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন।

শুভেন্দু বলেন, “উনি ৮০ জন বিধায়ক জিতিয়েও ধরে রাখতে পারেননি, ২৯ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনকে ধরে রাখতে পারেননি—তার দায় কি আমাদের? উনি নিজের ঘরই সামলাতে পারছেন না। ওঁর সবচেয়ে বড় অনুগামী ফিরহাদ হাকিম নিজেই বলছেন, ভক্তের থেকে রক্তকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফিরহাদ হাকিম কি বিজেপির নেতা, নাকি আমাদের মুখপাত্র? মুখ্যমন্ত্রী আগে নিজের প্রতিবেশী ফিরহাদের সঙ্গে সমস্যা মেটান, তারপর আমাদের নিয়ে ভাববেন।”

হলদিয়া পুরভোটে ‘শূন্য’ করার ডাক

আসন্ন হলদিয়া পুরসভা নির্বাচন নিয়ে নিজের দলের কর্মীদের স্পষ্ট রূপরেখা বেঁধে দিয়েছেন শুভেন্দু। হলদিয়া পুরসভার মোট ৩০টি আসনের সবকটিতেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিনি বলেন, “সামনেই হলদিয়া পুরসভার নির্বাচন। বিরোধীদের শূন্য করতে হবে। ৩০টি আসনের প্রতিটিতেই জয় ছিনিয়ে আনতে হবে। মমতাকে খালি হাতে ফেরাতে হবে, কারণ উনি রাজ্যের অনেক ক্ষতি করেছেন।”

একইসঙ্গে রাজ্যে উদযাপিত বিপুল সংখ্যক দুর্গোৎসবের প্রশংসার পাশাপাশি সম্প্রতি চোরবাগানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *