ধেয়ে আসছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়! বাংলায় কবে থেকে শুরু হচ্ছে দুর্যোগ?

বঙ্গোপসাগরের বুকে ক্রমশ ফুঁসে উঠছে শক্তি সঞ্চয় করা এক গভীর নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার সকালেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এখানেই শেষ নয়, এর ঠিক একদিন পর অর্থাৎ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর সকালেই এটি আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে একটি ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ (Severe Cyclonic Storm) পরিণত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর এর প্রত্যক্ষ প্রভাবেই পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে দুর্যোগের কালো মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে।
কোথায় ও কখন আছড়ে পড়বে ঝড়? আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন জানাচ্ছে, আগামী বুধবার, ২৮ অক্টোবর সকালে ঝড়টি সরাসরি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছে যাবে। এরপর বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এর। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় এই ঝড়ের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার। শুধু তাই নয়, এর দমকা হাওয়ার তীব্রতা ছুঁতে পারে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত!
বাংলায় কবে থেকে নামবে বৃষ্টির কোপ? এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব কেবল অন্ধ্রপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর আঁচ এসে পড়বে বাংলার উপকূলেও। ইতিমধ্যেই রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আগামী ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
-
সোমবার (২৬ অক্টোবর): দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই আকাশ মূলত শুষ্ক থাকবে। বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগোতে থাকবে।
-
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর): দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। উত্তরবঙ্গ আপাতত শুষ্কই থাকবে।
-
বুধবার (২৮ অক্টোবর): দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির দাপট বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। ওই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও শুরু হবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি।
-
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর): দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার দু’এক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
-
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর): পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
-
শনিবার ও রবিবার (৩১ অক্টোবর – ১ নভেম্বর): সপ্তাহান্তে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে।
উপকূলবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতা ও মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা: পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগামী ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিমি বেগে (দমকা হাওয়ায় ৫৫ কিমি পর্যন্ত) ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের সম্পূর্ণভাবে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা গভীর সমুদ্রে আছেন, তাঁদের ইতিমধ্যেই ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নিরাপদ কূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত ১ এবং সাগর দ্বীপে তৃতীয় পর্যায়ের স্থানীয় সংকেত জারি করা হয়েছে।
জরুরি সতর্কতা: ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের নিচু এলাকাগুলিতে সাময়িক জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে খোলা মাঠে থাকা কিংবা গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকা বিশেষ করে দার্জিলিংয়ে ধস নামার আশঙ্কা থাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও পরিবর্তন আসতে পারে, তাই লেটেস্ট আপডেটগুলিতে কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।