দিল্লির নামী স্কুলে ক্লাসের মাঝেই রক্তহিম করা কান্ড! ব্যাকপ্যাক থেকে কী মিলল?

রাজধানী দিল্লির বুকে আবারও এক অত্যন্ত মর্মান্তিক, চাঞ্চল্যকর এবং রক্তহিম করা ঘটনা সামনে এল। শনিবার দিল্লির কৃষ্ণা নগর এলাকার সুপরিচিত সর্বोदय বাল এবং বালিকা বিদ্যালয়ে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব ও ভয়াল দুর্ঘটনা। সেখানে ১২ নম্বর ক্লাসের বা দ্বাদশ শ্রেণীর এক ১৮ বছর বয়সী ছাত্রী স্কুলের চার দেয়ালের ভেতরের প্রাঙ্গণেই রহস্যজনক পরিস্থিতিতে নিজের গায়ে জ্বলনশীল পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুনের লেলহান শিখা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে মুহূর্তের মধ্যে ছাই হয়ে যায় ওই কিশোরী। ঘটনাস্থলেই তার অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু ঘটে। বিদ্যালয়ের মতো একটি সুরক্ষিত ও পবিত্রময় জায়গায় এরকম শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটে যাওয়ায় গোটা এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক এবং তীব্র শোরগোল তৈরি হয়েছে। সহপাঠী পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের মাঝে তৈরি হয় হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ দিনের মতোই শনিবার সকালে স্কুলে পঠনপাঠন ও ক্লাস চলছিল। ঠিক সেই সময়ই সর্বोदय বিদ্যালয়ের গার্ড রুমের পেছনের ফাঁকা জায়গায় ওই ছাত্রী সন্দেহজনকভাবে নিজের ওপর কোনো রাসায়নিক বা দাহ্য পদার্থ ছিটায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুনের শিখা দেখে যখন শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীরা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে দৌড়ে আসেন, ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই স্কুল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি অন্যান্য বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই কৃষ্ণা নগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী, ফোরেনসিক ক্রাইম টিম এবং উর্ধতন আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রাথমিক অনুসন্ধানের সময় পুলিশ মৃত ছাত্রীর উদ্ধার হওয়া স্কুল ব্যাগ এবং ঘটনাস্থল থেকে কিছু অত্যন্ত সন্দেহজনক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। তবে সেই ব্যাগে ঠিক কী ছিল বা কিশোরীটি কেন এমন একটি প্রাণঘাতী ও চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো, তা নিয়ে পুলিশ বা স্কুল প্রশাসন এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো খোলসা করেনি।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, কৃষ্ণা নগরের একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ড ও এক ছাত্রীর দগ্ধ হওয়ার বিষয়ে একটি জরুরি পিসিআর কল আসে। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলের গার্ড রুমের পেছন থেকে ১৮ বছরের ওই ছাত্রীর পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ফোরেনসিক ও ক্রাইম টিম ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ এবং নমুনা সংগ্রহ করেছে। মেয়েটি কি গত কয়েক দিন ধরে মারাত্মক মানসিক অবসাদ বা পারিবারিক কোনো চাপে ভুগছিল, নাকি নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো রহস্যজনক ও গুরুতর কারণ—তা নিশ্চিত করতে সহপাঠী এবং শিক্ষকদের বয়ান নথিভুক্ত করা হচ্ছে। গোটা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত ছাত্রীর পরিবারসহ সমগ্র কৃষ্ণা নগর এলাকায় শোক ও চরম আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।