পশ্চিম দিল্লির মায়াপুরীতে রাতের অন্ধকারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! কারখানায় আগুন লাগতেই মুহূর্তে ছড়াল তীব্র আতঙ্ক!

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী দিল্লির পশ্চিম অংশের অত্যন্ত ব্যস্ত এবং জনবহুল শিল্পাঞ্চল এলাকা মায়াপুরীর একটি কারখানায় এক মর্মান্তিক ও ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত তখন প্রায় ৯টা বাজছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মায়াপুরীর ওই শিল্পাঞ্চলের একটি ফোম ও প্লাস্টিক ম্যাট্রেস তৈরির কারখানায় আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা এবং কারখানার ভেতর থেকে প্রবল বেগে বের হতে থাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায়। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার ভেতরে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন অত্যন্ত দ্রুতগতির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং সম্পূর্ণ চত্বরটিকে গ্রাস করে ফেলে।

খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় প্রশাসন ও দিল্লি পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। আগুনের তীব্রতা এবং আশেপাশের এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখে পুলিশ চরম সতর্কতা অবলম্বন করে। জনবহুল এলাকা হওয়ায় কোনো ধরনের বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে পুলিশ অবিলম্বে আশেপাশের বেশ কয়েকটি সংলগ্ন কারখানা এবং আবাসিক বাড়িগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং এলাকাটি সম্পূর্ণ খালি করে দেয়।

ঘটনার খবর পেয়েই দমকল বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একে একে দমকলের মোট ১১টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। দমকল কর্মীরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দমকল আধিকারিক জয়সওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা ঠিক রাত ৯টা নাগাদ আগুন লাগার এই জরুরি খবরটি পাই। এর পরপরই পর্যাপ্ত সংখ্যক দমকলের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আমাদের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছেন এবং খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ তদন্ত শুরু করা হবে। তবে সবথেকে স্বস্তির বিষয় হলো, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ভেতরে কেউ আটকা পড়ে নেই বা কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।”

অন্যান্য দমকল আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কারখানাটির চারপাশের রাস্তাঘাট অত্যন্ত সরু হওয়ার কারণে দমকলের গাড়িগুলো পৌঁছতে এবং কাজ করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। তাছাড়া কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিকের বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড বা ‘ফ্লেক্সি-বোর্ড’ এবং ফোমের মতো অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় ঘন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও দমকল কর্মীরা চরম পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জল ছিটানোর পাশাপাশি বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং একাধিক ওয়াটার টেন্ডার ব্যবহার করে আগুন যাতে আশেপাশের অন্যান্য বাড়ি বা কারখানায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক তদন্তে এখনও পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অর্থাৎ শর্ট সার্কিট কিংবা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে কীভাবে এই বিপত্তি ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। পুলিশ ও দমকলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর কুলিং অপারেশন শেষ হলে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হবে। সেই তদন্তের পরই এই অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্ঘটনার আসল উৎস কোথায় ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। মায়াপুরীর এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে চাঞ্চল্য ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *