বন্দে মাতরমের ৬টি স্তবক গাওয়ার সরকারি নির্দেশে ঘোর আপত্তি! মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে প্রাক্তন আমলা

জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়লেন কেরালার অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক বালাকৃষ্ণন সত্যভামা মাভোজি। ভারত সরকারের সাম্প্রতিক আদেশ, যেখানে সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের পুরো ছয়টি স্তবকই গাওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই দলিত অবসরপ্রাপ্ত আমলার বক্তব্য, বৈচিত্র্যের দেশ ভারতে সব স্তবকের বাধ্যতামূলক প্রয়োগ দেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র থেকে ধর্মকেন্দ্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার একটি অপচেষ্টা। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৭ অক্টোবর শীর্ষ আদালতে এই আবেদনটির শুনানি হতে চলেছে।

আবেদনকারী মাভোজীর দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এর অন্তর্গত এই গানটির প্রথম দুটি স্তবকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা থাকলেও পরবর্তী চারটি স্তবকে এমন কিছু ধর্মীয় অনুষঙ্গ ও ভাবধারা রয়েছে যা সংখ্যালঘু সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সমাজকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দেবে এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানবে। প্রসঙ্গত, গত মাসে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী টিএম কৃষ্ণার দায়ের করা এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ইতিপূর্বে কেন্দ্রের কাছে এই বিষয়ে জবাব তলব করেছিল।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক ও ইতিহাসবিদদের মতে, ঐতিহ্যগতভাবেই ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক জাতীয় স্তরে সর্বজনগ্রাহ্য। ১৯৩৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে জাতীয় কংগ্রেস কেবল প্রথম দুটি স্তবক পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং স্বাধীনতার পরও সেই ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়েছিল। তবে বিজেপি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, পুরো গানটি না গেয়ে আংশিক বাদ দেওয়া আসলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তোষণ করার শামিল। তাই বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তিতে নরেন্দ্র মোদী সরকার পুরো ছয়টি স্তবক গাওয়ার নির্দেশ কার্যকর করে গানটিকে জাতীয় সঙ্গীতের সমমর্যাদা প্রদান করেছে। আগামী সপ্তাহে শীর্ষ আদালতে হতে চলা শুনানি থেকে এই জটিল বিতর্কের জল কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *