পাহাড়ি রাস্তায় হঠাৎ হরপা বান! কোডাইকানালের জলমগ্ন রাস্তায় আটকে পড়া পর্যটকদের ভিড়ে চরম আতঙ্ক!

তামিলনাড়ুর বিখ্যাত পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্র কোডাইকানাল ও তার আশেপাশের অঞ্চলে সাম্প্রতিক অবিরাম ও ভারী বর্ষণের ফলে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনপ্রিয় ‘সিলভার ক্যাস্কেড জলপ্রপাত’ (Silver Cascade Falls)-এর নিকটবর্তী এলাকায় হঠাৎ করে ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা হড়পা বান সদৃশ চরম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে প্রবল বেগে নেমে আসা কাদামাটি মিশ্রিত জলের স্রোত মুহূর্তের মধ্যে মূল রাস্তা গ্রাস করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং পর্যটকদের বহনকারী একাধিক গাড়ি ও বাস দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় আটকে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কীভাবে জলের তোড়ে রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে এবং দোকানপাট ও স্টলের সামনে শত শত গাড়ি স্থবির হয়ে পড়ে আছে। জলপ্রপাত এলাকার এই আকস্মিক জলস্ফীতি পর্যটকদের মনে দারুণ ভীতির সঞ্চার করেছে।
বর্তমানে তামিলনাড়ুর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তার কারণে মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর (IMD) আগামী কয়েকদিনের জন্য রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির রেড, অরেঞ্জ ও ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে। কন্যাকুমারী সংলগ্ন কোমোরিন এলাকা এবং দক্ষিণ তামিলনাড়ুর ওপর একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান করায় বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে তামিলনাড়ুতে ইতোমধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ১৩.৩ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাধারণ সময়ে ১০.৮ সেন্টিমিটার থাকে। রাজধানী চেন্নাইসহ উপকূলীয় জেলাগুলিতেও লাগাতার বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কোডাইকানালের এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বহু নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণের পূর্বে আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন বা সতর্কতা না দেখেই মানুষ বিপদের মুখে লড়তে চলে যাচ্ছেন। জনৈক ব্যবহারকারী কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, অনেকেই ভ্রমণের আগে বিভিন্ন কুসংস্কার বা তিথি-নক্ষত্র বিচার করলেও সবচেয়ে জরুরি আবহাওয়া আপডেট যাচাই করতে ভুলে যান। আবহাওয়া দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও পর্যটকদের একাংশ তা উপেক্ষা করায় এই ধরণের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, পরবর্তী কয়েক দিন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যেন সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা অপ্রয়োজনে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত না করেন।