‘আবার বড় হামলার মুখে ইরান?’ মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের মেঘ! ভয়ানক পদক্ষেপ করবে তেহরান?

ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে ইরানে হামলার হুমকির পরেই চরম উৎকণ্ঠায় বিশ্ব রাজনীতি। আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে কোনো সামরিক অভিযান শুরু করলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রের নীচে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবলগুলিকে নিশানা করার পরিকল্পনা নিয়েছে তেহরান। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এমনটাই জানিয়েছেন।

শুক্রবার ফ্লোরিডার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো আরও একটা ছোটখাটো এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি।’ উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার যে সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তার নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন ফের একবার বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে।

ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের জেরে অর্থনৈতিক সংকট, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ও বাস্তুচ্যুতির মতো মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এমন এক সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের এই নতুন হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে এর পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে আমেরিকা চাইলে খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে, যদিও তা এখনই করা উচিত নাকি ধীরে ধীরে কমানো উচিত, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, আগামী মাসে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন।

ইন্টারনেটের কেবল কেটে দেওয়ার মারাত্মক ছক: নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় বসে নেই ইরানও। আমেরিকা ও ইজরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রের তলদেশে থাকা যোগাযোগের কেবলগুলি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছে তেহরান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের দুই নিরাপত্তা আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই হামলা কীভাবে বা কোথায় চালানো হবে, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।

তাঁদের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, সমুদ্রের তলার ইন্টারনেট কেবল কেটে দেওয়ার পাশাপাশি সেগুলির মেরামতির কাজও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করবে তেহরান। উল্লেখ্য, গ্লোবাল ইন্টারনেট এবং টেলিফোন যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশের এই কেবলগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই পরিকাঠামোয় কোনো ধরনের নাশকতা ঘটলে শুধু আঞ্চলিক নয়, গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময়ের জন্য পঙ্গু হয়ে পড়ার বড়সড় আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *