কেন্দ্রীয় কর্মীদের ঝুলিয়ে রাখল মোদী সরকার! জুলাইয়ের ডিএ নিয়ে মিলল না কোনো স্বস্তির খবর, কবে হবে ঘোষণা?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জুলাই ২০২৬-এর মহার্ঘ ভাতা (DA) বা ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স বৃদ্ধি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা আসেনি। চলতি সপ্তাহান্তে অর্থাৎ শনি ও রবিবারের ছুটির দিনে সরকার যে ডিএ বৃদ্ধির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবে না, তা এক প্রকার নিশ্চিত। যদি উইকেন্ডে এই সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি না হয়, তবে স্বাভাবিক নিয়মেই এই ফাইলটি আগামী সাপ্তাহিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। আগামী ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠক বসার কথা রয়েছে, যেখানে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকার তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে থাকে। যেহেতু মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR)-এর মতো বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব রয়েছে দেশের এক কোটিরও বেশি সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের দৈনন্দিন জীবনের ওপর, তাই সরকার সাধারণত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই এটি প্রকাশ করে। সেই হিসেবে আগামী ২৮ অক্টোবরের ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই নিয়ে সবুজ সঙ্কেত মিলতে পারে। তবে প্রশাসনিক নিয়মের দিক থেকে দেখলে, ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ক্যাবিনেট বৈঠকের অপেক্ষা করার কোনো নির্দিষ্ট আইনগত কড়াকড়ি নেই। ইচ্ছা করলেই অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ব্যয় বিভাগ’ (Department of Expenditure) মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা না করেই সরাসরি ডিএ বৃদ্ধির সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন জারি করতে পারত।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসের একেবারে শুরু থেকেই কর্মচারীদের প্রবল আশা ছিল যে সরকার পুজোর আগেই ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করবে। কিন্তু ৬ অক্টোবরের প্রথম সাপ্তাহিক ক্যাবিনেট বৈঠকে এই সংক্রান্ত কোনো আলোচনাই হয়নি। এরপর ১৪ অক্টোবরের দ্বিতীয় বৈঠকে রেলকর্মীদের জন্য ‘পারফরম্যান্স-লিংक्ড বোনাস’ (PLB)-এর অনুমোদন মিললেও মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখে প্রশাসন। পরবর্তীতে ১৬ অক্টোবর নন-পিএলবি বোনাসের ঘোষণা করা হলেও ডিএর কোনো নামগন্ধ ছিল না। এমনকি দেশের কোটি কোটি কর্মচারী আশা করেছিলেন যে বিজয়া দশমীর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২১ অক্টোবর বুধবারের ক্যাবিনেট বৈঠকে বড়সড় ঘোষণা আসবে, কিন্তু সেদিন কোনো বৈঠকই বসেনি।
নতুন এই ডিএ হারের কার্যকারিতা নিয়ে অল ইন্ডিয়া নিউ পেনশন স্কিম এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AINPSEF)-এর সভাপতি মনজিৎ সিং প্যাটেল জানিয়েছেন যে, পরিবর্তিত এই ডিএ হারটি কার্যকর হবে মূলত জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ সময়কালের জন্য। চলতি মাসের মধ্যেই যদি সরকার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে, তবে কর্মচারীরা আগামী নভেম্বর মাসের শেষভাগে যখন তাঁদের মাসিক বেতন হাতে পাবেন, ঠিক তখনই তাঁরা জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বকেয়া বা এரியারের (Arrear) টাকা একসঙ্গে পেয়ে যাবেন। এর মূল কারণ হলো সরকারি বেতন কাঠামোর হিসাব সাধারণত প্রতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত গণনা করা হয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এবার মহার্ঘ ভাতা ৩ শতাংশ বাড়বে নাকি ৪ শতাংশ বাড়বে? মহার্ঘ ভাতা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সংগৃহীত গড় খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হারকে (Retail Inflation) মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। এই নির্ধারিত গাণিতিক ফর্মুলা অনুযায়ী হিসাব কষলে দেখা যাচ্ছে যে, এবার ডিএ ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে কর্মচারীদের বর্তমান ৬০ শতাংশ ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা বেড়ে সোজা ৬৩ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বেসিক স্যালারির ওপর। মূল বেতনের সঙ্গে ডিএ যুক্ত হওয়ায় কর্মচারীদের মাসিক গ্রস স্যালারি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। উদাহরণস্বরূপ, লেভেল ৫-এর একজন কর্মীর মূল বেতন যদি ২৯,২০০ টাকা হয়, তবে ডিএ ৬০ থেকে বেড়ে ৬৩ শতাংশ হলে তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ৮৭৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।