নারীর ক্ষমতায়নেই পাল্টে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ! মহাগৌরীর আরাধনায় দাঁড়িয়ে বড় বার্তা দিলেন যোগী আদিত্যনাথ

একটি সমৃদ্ধ, উন্নত এবং শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তুলতে নারীদের পূর্ণ সুরক্ষা, সামাজিক সম্মান এবং তাদের আর্থিক স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা সবচেয়ে বেশি জরুরি। নবরাত্রির পবিত্র মহাঅষ্টমীতে মা মহাগৌরীর চরণে পুজো দিয়ে ঠিক এই বার্তাই দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রবিবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যের নারীরা যখন নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং আত্মনির্ভরশীল জীবনযাপন করতে পারবেন, তখনই সমাজে প্রকৃত ও দীর্ঘস্থায়ী অগ্রগতি সম্ভব হবে।
নারীদের হাতে ‘টেক-হোম রেশন’-এর দায়িত্ব
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় রাজ্য সরকার উত্তরপ্রদেশের নারীদের শিক্ষা, পুষ্টি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং উপার্জনের সুযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টির ব্যবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি অতীতের ত্রুটির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। যোগী আদিত্যনাথ জানান, ২০১৭ সালের আগের সময়ে পুষ্টি ও অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য বিতরণ ব্যবস্থায় দুষ্কৃতী ও অপরাধী চক্রের ব্যাপক দাপট ছিল। বর্তমান সরকার সেই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে শিশুদের জন্য তৈরি ‘টেক-হোম রেশন’ উৎপাদন ও বিতরণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তুলে দিয়েছে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self-Help Group) মহিলাদের হাতে। এর ফলে একদিকে যেমন গোটা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই গ্রামীণ নারীদের সামনে উপার্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
ভাতা বৃদ্ধি থেকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা: যুগান্তকারী পদক্ষেপ
রাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে যোগী সরকার একাধিক প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে:
-
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তাঁদের মাসিক সম্মানী ৩,০০০ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১২,০০০ টাকা করা হয়েছে এবং তাঁদের স্বাস্থ্য বিমার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
-
বিসি সখী (BC Sakhi): গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও সাবলীল করতে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে নারীদেরই ‘বিসি সখী’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, যা ব্যাঙ্কিং পরিষেবাকে আরও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
-
দুগ্ধ উৎপাদনে বিপ্লব: ডেয়ারি ক্ষেত্র এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাত ধরে লক্ষ লক্ষ নারী আজ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন। ‘বালীনে’, ‘সমর্থ্য’, ‘কাশী’, ‘বাবা গোরক্ষনাথ’ ও ‘সৃজনী’-র মতো বিভিন্ন দুগ্ধ উৎপাদক সংস্থার সঙ্গে বর্তমানে ৩১টি জেলার ৪ লক্ষেরও বেশি নারী যুক্ত রয়েছেন। পশুপালনকে তাঁরা একটি লাভজনক ব্যবসায়িক রূপ দিয়ে নিয়মিত আয়ের মুখ দেখছেন।
১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীর ক্ষমতায়ন কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং এটি বাস্তব রূপ নিয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি নারী সরাসরি বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে নিজেদের ভূমিকা পালন করে চলেছেন। উৎসবের মরশুমে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজ্যের নারী সমাজকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।