সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তার পরেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত! সস্তা হচ্ছে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত নামি দামি ওষুধ

ক্যান্সার রোগীদের জন্য এল অত্যন্ত স্বস্তির খবর। দেশের বহু মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ানো ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ কমাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA) বা ওষুধ মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, একধাক্কায় ১৩৭টি ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। শুধু তাই নয়, ওষুধের অতিরিক্ত মুনাফা বা ট্রেড মার্জিন ৩০ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর, ২০২৬ থেকে এই নতুন ও কমানো দাম দেশজুড়ে সরকারিভাবে কার্যকর হবে।

কোন কোন নির্দেশিকা জারি করেছে এনপিপিএ?

ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম এবং কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। এনপিপিএ-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, দেশের সমস্ত হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ওষুধের দোকানগুলোকে আবশ্যিকভাবে নতুন ও কমানো দামেই ওষুধ বিক্রি করতে হবে। পাশাপাশি, আপডেট করা দামের তালিকাটি গ্রাহক বা রোগীদের সহজে চোখে পড়ে, এমন স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে। দাম কমানোর ফলে বাজারে যাতে ওষুধের কোনো কৃত্রিম সংকট বা ঘাটতি তৈরি না হয়, তার জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন ও সাপ্লাই স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ এনপিপিএ-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা ‘ফার্মা সহি দাম’ (Pharma Sahi Daam) অ্যাপের মাধ্যমে নতুন দামের তালিকা দেখে নিতে পারবেন।

কোন ধরনের ওষুধের দাম কমছে?

এই তালিকায় মূলত ১৩৭টি নন-শিডিউলড (Non-scheduled) ওষুধকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক জরুরি এবং জীবনদায়ী ওষুধ:

  • ইমিউনোথেরাপির বিভিন্ন ওষুধ।

  • স্তন ও প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডেনোসুমাব (Denosumab)।

  • কেমোথেরাপির পরবর্তী সংক্রমণ রোধে ব্যবহৃত পেগফিলগ্রাস্টিম (Pegfilgrastim)।

  • কোলন, ওভারিয়ান ও জরায়ুর ক্যান্সারে ব্যবহৃত বেভাসিজুমাব (Bevacizumab)।

  • এছাড়া পেমব্রোলিজুমাব (Pembrolizumab), ডুরভালুমাব (Durvalumab) এবং ওসিমেরটিনিব (Osimertinib)-এর মতো নামিদামি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো দামও এবার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।

ব্র্যান্ডেড, জেনেরিক, আমদানি করা কিংবা পেটেন্ট থাকা বা না থাকা—সব ধরনের ক্যান্সার ওষুধের ক্ষেত্রেই এই নতুন নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে নতুন দামের তালিকা এনপিপিএ-কে জানাতে হবে।

কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত?

ওষুধের উৎপাদন বা আমদানিকৃত কেনা দাম এবং সাধারণ মানুষের জন্য ধার্য করা সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP)-এর মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক ও মুনাফা লুঠের বিষয়টি নিয়ে এর আগে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের সেই কড়া বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। ‘ট্রেড মার্জিন র‍্যাশনালাইজেশন’ (Trade Margin Rationalization) নীতি সফলভাবে প্রয়োগ করে ওষুধের ব্যবসায়িক লাভ ৩০ শতাংশে আটকে দেওয়া হয়। এর ফলেই বর্তমান বাজারের চড়া দামের তুলনায় ক্যান্সারের বহু ওষুধের দাম একলাফে প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেল, যা দেশের লাখ লাখ ক্যান্সার রোগী ও তাঁদের পরিবারকে এক বিরাট আর্থিক স্বস্তি দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *