টুইন সিলিন্ডার ও শক্তিশালী টার্বো ইঞ্জিন! ৯.৯৯ লাখে বাজারে এলো মাহিন্দ্রা এক্সইউভি ৩এক্সও সিএনজি

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হলো মাহিন্দ্রা এক্সইউভি ৩এক্সও-র বহুল চর্চিত সিএনজি সংস্করণ। কোম্পানিটি এই নতুন রেঞ্জের নাম দিয়েছে ‘ZNG’ বা ‘জেডএনজি’। আকর্ষণীয় মূল্যে বাজারে আসা এই কম্প্যাক্ট এসইউভি-র প্রারম্ভিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯.৯৯ লাখ টাকা (এক্স-শোরুম)। ফ্যাক্টরি-ফিটেড এই সিএনজি মডেলটি মোট চারটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে— MX EDGE, REVX EDGE (O), AX5 এবং শীর্ষ ভ্যারিয়েন্ট REVX A। টপ-স্পেক ভ্যারিয়েন্টটির দাম রাখা হয়েছে ১২.২৭ লাখ টাকা (এক্স-শোরুম)। জোড়া সিএনজি সিলিন্ডার এবং ২০০ এনএম টর্ক উৎপাদনকারী শক্তিশালী টার্বোচার্জড বায়ো-ফুয়েল ইঞ্জিন সমৃদ্ধ এই গাড়িটি বাজারে আসা মাত্রই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

অত্যাধুনিক ডিজাইনের কারণে নতুন ৩এক্সও সিএনজি মডেলের বুট ফ্লোরের নিচে দুটি পৃথক সিএনজি সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেল সিলিন্ডার সিএনজি গাড়ির মতো বুট স্পেস নষ্ট না হয়ে জিনিসপত্র রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা মিলছে। ক্যাবিনের ভেতরে পেট্রোল থেকে সিএনজি মোডে সহজে স্যুইচ করার জন্য বিশেষ ফুয়েল সিলেকশন সুইচ দেওয়া হয়েছে। এতে গাড়ির ব্যাক স্পেস বা জিনিসপত্র রাখার ক্ষমতা বহাল থাকছে, যা গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।

নতুন XUV 3XO (ZNG)-এ ব্যবহার করা হয়েছে মাহিন্দ্রার শক্তিশালী ১.২ লিটার এমস্ট্যালিয়ন জি১২ টার্বোচার্জড এমপিএফআই ইঞ্জিন। এটি প্রায় ১১০ হর্সপাওয়ার এবং ২০০ এনএম সর্বোচ্চ টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। ১৫০০ থেকে ৩৫০০ আরপিএম-এর মধ্যে গাড়িটি পিক টর্ক প্রদান করে। ডেডিকেটেড সিএনজি ইনজেকশন সিস্টেম এবং বিশেষ টার্বোচার্জার ক্যালিব্রেশনের জন্য এটি অত্যন্ত দ্রুত গতি অর্জন করতে পারে। মাহিন্দ্রার দাবি অনুযায়ী, এই গাড়িটি মাত্র ৪.৯ সেকেন্ডে ০ থেকে ৬০ কিমি/ঘণ্টা এবং ১১.৮ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিবেগ ছুঁতে পারে।

চালনার আরাম বাড়াতে এতে দেওয়া হয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ম্যাকফারসন স্ট্রাট ফ্রন্ট সাসপেনশন এবং সেমি-ইন্ডিপেন্ডেন্ট টুইস্ট-বিম রিয়ার এক্সেল। এছাড়া থার্ড-জেনারেশন ইলেকট্রিক পাওয়ার স্টিয়ারিং-এর সাথে নরমাল, কমফোর্ট এবং স্পোর্টস মোড উপলব্ধ রয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও মাহিন্দ্রা কোনো আপস করেনি; স্ট্যান্ডার্ড ফিচার হিসেবে রয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ, ৪টি ডিস্ক ব্রেক, আইএসওফিক্স চাইল্ড-সিট এঙ্করেজ এবং প্রতিটি যাত্রীর জন্য ৩-পয়েন্ট সিটবেল্ট। কেবিনে রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং ইলেকট্রিক সানরুফ। টাটা নেক্সন সিএনজি এবং মারুতি সুজুকি ব্রেজা সিএনজির সাথে এই মডেলটির কড়া প্রতিযোগিতা হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *