‘মাফিয়ার জায়গা মাটিতে!’ উত্তরপ্রদেশে প্রয়াগরাজ মডেলে তৈরি হচ্ছে গরিবদের মহল্ল

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যে মাফিয়া ও ভূ-মাফিয়াদের বিরুদ্ধে নেওয়া সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে এক জনসভায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে মাফিয়াদের একমাত্র আসল জায়গা মাটিতে। যে সমস্ত জমি একসময় মাফিয়ারা জোর করে দখল করে রেখেছিল, সেই জমিগুলি উদ্ধার করে এবার সেখানে গরিব, বঞ্চিত এবং দলিত শ্রেণির পরিবারগুলির জন্য মাথার ওপর পাকা ছাদ বা আধুনিক আবাসন গড়ে তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়াগরাজে মাফিয়াদের কব্জা থেকে মুক্ত করা জমিতে ইতিমধ্যেই বহু তলা বিশিষ্ট আবাসন তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ‘এখন আর মাফিয়াদের দাপট চলবে না, তাদের স্থান মাটিতে। এখন সেই জমিতে গরিব মানুষের জন্য তৈরি হবে বড় বড় প্রাসাদ।’ বৃহস্পতিবার বারাণসীতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এভাবেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুর চড়ান।

বারাণসীর বিধায়ক ডঃ নীলকণ্ঠ তিওয়ারির ৭৬ দিনব্যাপী ওয়ার্ড প্রবাস অভিযানের সমাপ্তি এবং ‘স্বচ্ছতা মিত্র’ সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সময় তিনি সাফাই কর্মীদের সম্মান ও অধিকারের ওপর বিশেষ জোর দেন। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতে সাফাই কর্মীদের থেকে কাজ করিয়ে নিয়ে তাঁদের সম্মানি বা পারিশ্রমিকে বেআইনিভাবে কাটছাঁট করা হতো। বহু সময় গরিব কর্মীরা নিজেদের সম্পূর্ণ বকেয়া টাকা পেতেন না। কিন্তু এখন থেকে এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা ও অন্যায় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। উত্তরপ্রদেশ আউটসোর্স কর্পোরেশনের মাধ্যমে সাফাই কর্মীদের ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা মাসিক সম্মানি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁরা ইএসআই-এর অধীনে চিকিৎসা পরিষেবা, নিরাপত্তা বিমা এবং পিএফ-এর সম্পূর্ণ সুবিধা পাবেন। এমনকি কোনো দুর্ঘটনায় কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

একই মঞ্চ থেকে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারতন্ত্র নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, যারা কেবল নিজের পরিবারকে সমগ্র সমাজ বা রাজ্য বলে ভুল করে, তাদের চরম দুর্গোট অবশ্যম্ভাবী। কটাক্ষ করে যোগী আদিত্যনাথ প্রশ্ন তোলেন, যখন কোনো জনপ্রতিনিধি দুপুর ১২টায় ঘুম থেকে ওঠেন এবং দলের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিও যদি ২৪ ঘণ্টা নিজের পরিবারের মধ্যেই মগ্ন থাকেন, তবে সাধারণ জনগণের সমস্যা কীভাবে সমাধান হবে? যাঁরা সমাজ, রাজ্য এবং সমগ্র দেশকে নিজের পরিবার বলে মনে করেন, তাঁরাই সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারেন। সেইসব জনপ্রতিনিধিদেরও সমালোচনা করেন তিনি, যাঁরা একবার নির্বাচনে জেতার পর কেবল লখনউতে বসে থাকেন এবং নিজের নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে আসেন না। পরিশেষে, তিনি রাজ্যের ৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রেই নীলকণ্ঠ তিওয়ারির মতো জনগণের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার অভিযানের আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *