এলন মাস্কের নতুন চাঞ্চল্য! এবার যুদ্ধক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

সম্প্রতি ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা নিয়ে জোর চর্চায় এসেছিলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী এলন মাস্ক। ভারত সরকার এবং রিলায়েন্স গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার নিজের তৈরি বিতর্ক আর কৌশলের ফাদেই জড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন মার্কিন এই ধনকুবের। এলন মাস্ক এবং তাঁর মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স-এর জনপ্রিয় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিঙ্ক’-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন ও পোল্যান্ড। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানের সময় হঠাৎ করে স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট গতি কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় রাজনীতিতে এক বিশাল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, পোল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পোস্ট করে এলন মাস্কের বিরুদ্ধে নিজের ব্যবসা বা প্রযুক্তির পণ্যের মাধ্যমে রাজনীতি করার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন।
ইউক্রেনীয় সেনা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ১৩-১৪ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী যখন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মহড়া ও নজরদারি অভিযান চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই আচমকা স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট স্পিড এক ধাক্কায় বহুলাংশে কমিয়ে দেওয়া হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা সের্গি বেসক্রেস্তনোভ জানিয়েছেন যে, কোনো প্রকার পূর্ব সতর্কবার্তা বা নোটিশ ছাড়াই সম্পূর্ণ একক সিদ্ধান্তে এই পরিবর্তনটি করা হয়েছিল। ইন্টারনেট পরিষেবার এই অপ্রত্যাশিত ধীরগতির ফলে ইউক্রেনীয় সেনার মাঝারি পাল্লার ড্রোন হামলা, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন পরিচালনা, সামরিক রসদ সরবরাহ এবং কৌশলগত সীমান্ত নজরদারির মতো একাধিক জরুরি কার্যক্রম চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইউক্রেনের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৈরি হওয়া কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপের ফলেই হয়তো এই ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে রাশিয়ান তেল শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়াম ডিপোগুলিতে ইউক্রেনের একের পর এক মারাত্মক ড্রোন হামলা বন্ধ করতেই নাকি কিভ-এর ওপর এমন অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে এই সমস্ত বিতর্কের জবাবে এলন মাস্ক জানিয়েছেন যে, সাধারণ ‘স্টারলিঙ্ক’ এবং সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত ‘স্টারশীল্ড’-কে এক করে দেখা ভুল। মাস্কের দাবি, স্টারলিঙ্ক মূলত একটি সাধারণ বেসামরিক ইন্টারনেট পরিষেবা, যেখানে স্টারশীল্ড তৈরি করা হয়েছে মার্কিন সরকারের সুরক্ষা ও সামরিক চাহিদা মেটাতে। ফলে স্টারশীল্ড বা সামরিক যোগাযোগের গতি নিয়ন্ত্রণ করার মূল চাবিকাঠি মার্কিন সেনার হাতেই থাকে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পোল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লো সিকোরস্কি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ সরাসরি মাস্ককে ট্যাগ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, এলন মাস্ক কি আবার নিজের বাণিজ্যিক পণ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছেন? তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে জানান যে, সমগ্র ইউরোপে থাকা তাঁর গ্রাহকরা সমস্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। উল্লেখ্য, ইউক্রেনীয় সেনার ব্যবহৃত স্টারলিঙ্ক সংযোগের বড় একটা অংশের সাবস্ক্রিপশন ফি বা খরচ বহন করে পোল্যান্ড সরকার। এমন পরিস্থিতিতে একজন বেসরকারি ব্যবসায়ীর মর্জির ওপর কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব বা সেনার যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা নির্ভরশীল হওয়া উচিত, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।