একটানে ৪৫০টি কামিকাজে ড্রোন! ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ সোলার ডিফেন্সের

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সামরিক অস্ত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। ভারতীয় সেনার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে দেশীয় ডিফেন্স প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘সোলার ডিফেন্স’ (Solar Defence) এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। সংস্থাটি এককালীন সর্ববৃহৎ চালানে ভারতীয় সেনার হাতে মোট ৪৫০টি লোইটারিং মুনিশন বা কামিকাজে ড্রোন সফলভাবে তুলে দিয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই ড্রোনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, যা শত্রুর এলাকায় লক্ষ্যবস্তুর ওপর দীর্ঘক্ষণ আকাশে চক্কর কাটতে পারে এবং নিখুঁত সুযোগ বুঝে সরাসরি টার্গেটে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এবং অপারেশন সিঁদুরের মতো সামরিক অভিযানে এই ধরনের কামিকাজে ড্রোনের রণকৌশলগত গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে প্রমাণিত হয়েছে।
এই দেশীয় ডিফেন্স সিস্টেমটি সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর ভারতের পথে এক বিরাট অর্জন। সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই কামিকাজে ড্রোনগুলির প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি যন্ত্রাংশ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি আমদানিকৃত অত্যন্ত ব্যয়বহুল সমরাস্ত্রের তুলনায় এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এক অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠেছে। সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা ও গতিবিধির মাধ্যমে এই ড্রোন মাত্র ৬০ মিনিটের জন্য একটানা আকাশে উড়তে সক্ষম এবং এটি প্রায় ১.৫ কিলোগ্রাম ওজনের হাই-এক্সপ্লোসিভ ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড বহন করতে পারে। এর ফলে এটি সহজেই শত্রু পক্ষের লঞ্চপ্যাড, সামরিক সম্পদ এবং হালকা বা অখণ্ডিত যানবাহন মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। এর গাইডেন্স সিস্টেম এতটাই নিখুঁত যে এটি দুই মিটারেরও কম ত্রুটির ব্যবধানে সরাসরি মূল লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে।
সেনাবাহিনীর জরুরি ক্রয় প্রক্রিয়ার অধীনে এবং কঠোর ট্রায়ালের পরই চলতি বছরের জুন মাসে এই বড়সড় অর্ডারটি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে একাধিক দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এই ট্রায়াল প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেও একমাত্র সোলার ডিফেন্সই সমস্ত অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে পূরণ করতে সক্ষম হয়। এই বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার সংযুক্ত হওয়ার ফলে ভারতীয় স্থলসেনার শক্তি যে আগামী দিনে বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য।