আইএমএফের প্রশংসায় ভাসল ভারত! জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে জানাল বড় বার্তা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) পক্ষ থেকে ভারতের জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে আনা পরিবর্তনগুলির তীব্র প্রশংসা করা হয়েছে। ব্যাংককে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন যে, গভীর শক্তি সংকটের মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও ভারত অত্যন্ত শক্তপোক্ত অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিচয় দিয়ে এই পরিস্থিতি দারুণভাবে সামলে উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে টাকার (রুপা) ওপর যে ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তাকে কোনোভাবেই ভারতীয় অর্থনীতির ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক এই আর্থিক সংস্থাটি।
চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি আশাতীত ভালো ফল করায় আইএমএফ ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির অনুমান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি ও আগামী অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। এমনকি মধ্যমেয়াদি ক্ষেত্রেও এই বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ বজায় থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (MoSPI) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের বাস্তব জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পরিষেবা ক্ষেত্রের রমরমা, দেশের বিশাল ঘরোয়া বাজার, কর্মক্ষম জনসংখ্যার আধিক্য এবং লাগাতার কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কারের কারণেই ভারতের অর্থনীতি এই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে আইএমএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জিডিপি গণনার ক্ষেত্রে ভারত সরকার যে নতুন ভিত্তি বছর (২০১১-১২ থেকে বদলে ২০২২-২৩) চালু করেছে, তারও উচ্চ প্রশংসা করেছে আইএমএফ। কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন যে, এই পরিবর্তনগুলি আইএমএফের নিজস্ব পরিসংখ্যান বিভাগের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ মেনেই করা হয়েছে। তবে টাকার মূল্যের ওঠানামা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, বৈশ্বিক সুদের হার, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং কাঁচা তেলের মূল্যের ওপর মুদ্রার মান অনেকাংশেই নির্ভর করে। ভারত যেহেতু প্রধানত তেল আমদানিকারক দেশ, তাই বৈশ্বিক শক্তি সংকটের প্রভাবে রুপির ওপর কিছুটা চাপ আসাই স্বাভাবিক। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে বাজারে রুপির অবস্থান আগের তুলনায় অনেকটাই শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হয়েছে।