অজিত আগরকরের উত্তরসূরি কে? বড় নাম টানতে বোর্ডের বড় চাল, বাড়ছে বেতন!

টিম ইন্ডিয়ার নতুন চিফ সিলেক্টর কে হবেন এবং কে নেবেন অজিত আগরকরের স্থলাভিষিক্ত—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বর্তমানে চরম ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে। নতুন প্রধান নির্বাচক পদের জন্য বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে যে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, তার নির্ধারিত শেষ তারিখ অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর ইতিমধ্যেই পার হয়ে গিয়েছে। শোনা যাচ্ছিল, অজিত আগরকরের শূন্যস্থান পূরণে প্রাক্তন উইকেটকিপার-ব্যাটার পার্থিব প্যাটেলের নাম সবার্ত্ত্বে এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু সব জল্পনায় জল ঢেলে অবাক করে দিয়ে তিনি এই পদের জন্য আবেদনই করেননি। আর এর ফলেই বোর্ড কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং একজন হেভিওয়েট বা ‘বড় নাম’ যুক্ত কোনো প্রাক্তন তারকাকে এই দায়িত্বের দিকে টানতে বিসিসিআই এবার নির্বাচকদের বেতন বাজেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়েছে বলে খবর।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়া (TOI)-এর সূত্র অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রধান নির্বাচক পদে কোনো বড় মাপের তারকাকে বসানোর জন্য পারিশ্রমিকের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। অর্থাৎ, পরবর্তী চিফ সিলেক্টর যদি এমন কোনো বড় নাম হন, তবে তাঁর বেতন পূর্ববর্তী প্রধান অজিত আগরকরের বেতনের থেকেও বেশি হতে পারে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আরপি সিং এবং প্রজ্ঞান ওঝা সিলেকশন কমিটিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই বোর্ডের নির্বাচকদের ওপর বার্ষিক খরচ নির্ধারিত বাজেট ছাড়িয়ে প্রায় ১৭.৪৫ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য বোর্ড ইতিমধ্যেই ১৯.৩৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করেছে, যা গতবারের তুলনায় প্রায় ২ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ, সার্বিক বিচারে টিম ইন্ডিয়ার নির্বাচন কমিটির মোট বাজেট এক ধাক্কায় প্রায় ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পার্থিব প্যাটেল দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে, তবে পরবর্তী চিফ সিলেক্টর হিসেবে কার মাথায় উঠবে মুকুট? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বর্তমানে জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি বা ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এর প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের নাম নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, ভারতীয় ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিকল্পনা ও দল নির্বাচনে লক্ষ্মণের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি, এই মুহূর্তে প্রজ্ঞান ওঝা অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব বা নিজের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
টিওআই-এর প্রতিবেদনে বোর্ডের এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, বোর্ড চেয়েছিল আগরকর অন্তত আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিজের পদে বহাল থাকুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সেই অনুকূলে এগোয়নি। এখন যদি নতুন কোনো প্রধান নির্বাচক আসেন, তবে তাঁর ক্রিকেটীয় দর্শন বা চিন্তাভাবনা বর্তমান প্যানেলের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা হতে পারে। এই কথা মাথায় রেখে এবং ভিভিএস লক্ষ্মণের বাড়তে থাকা প্রভাব ও ভূমিকার ওপর নজর রেখে বোর্ড আপাতত বর্তমান অবস্থাকেই বজায় রাখার কথা ভাবতে পারে।
পাশাপাশি, বর্তমান নির্বাচক শিবসুন্দর দাসের ভবিষ্যৎ নিয়েও খুব শীঘ্রই বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিসিসিআইকে। কারণ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তাঁর চার বছরের দীর্ঘ কার্যকালের মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে। বোর্ডের একটি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, আসন্ন বিশ্বকাপ পর্যন্ত শিবসুন্দর দাসকে তাঁর পদে বহাল রাখার সুযোগ দিতে পারে বোর্ড। তবে শেষ পর্যন্ত হাই-প্রোফাইল এই পদের জন্য বোর্ড কাকে বেছে নেয় এবং বেতনের অঙ্ক বাড়িয়ে বড় কোনো তারকাকে আনতে সফল হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।