AI-কে অন্ধের মতো ভরসা করছেন? মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলার এই সতর্কবার্তা না শুনলে বড় সর্বনাশের মুখে পড়বেন!

আর্থিক লেনদেনের জটিল পরামর্শ হোক, অফিসের অত্যন্ত গোপনীয় ডেটা বিশ্লেষণ কিংবা কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস বদল—আজকের দিনে আমাদের প্রতিটি কাজের প্রায় প্রতিটি পদেই জড়িয়ে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI (Artificial Intelligence)। কিন্তু সুবিধা ও প্রযুক্তির এই অন্ধ মোহের মাঝেই এক চরম ও ভয়ঙ্কর বিপদের ঘণ্টা বাজালেন মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান এবং সিইও সত্য নাদেলা (Satya Nadela)।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ ‘Models as Insider Risks in the Super Intelligence Era’ শীর্ষক একটি দীর্ঘ এবং চাঞ্চল্যকর পোস্টে কোম্পানি ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। নাদেলার সাফ কথা, ফ্রন্টিয়ার এআই (Frontier AI) মডেলগুলোকে নিছক সাধারণ কোনো সফটওয়্যার বা গ্যাজেট ভেবে ভুল করলে বড়সড় সর্বনাশের মুখে পড়তে হবে। বরং বর্তমান সুপার ইন্টেলিজেন্সের যুগে এদের একজন অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ও ঝুঁকিপূর্ণ ‘ইনসাইডার রিস্ক’ বা অভ্যন্তরীণ বিপদের চোখেই দেখা উচিত।

কেন AI-কে অন্ধ ভরসা করা ভয়ঙ্কর?
নাদেলার মতে, অতীতে প্রথাগত বা সাধারণ কোনো সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিলে কোডের কোন লাইনে ভুল রয়েছে, তা সহজেই খুঁজে বের করে ঠিক করা যেত। কিন্তু আজকের আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI মডেলের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ অসম্ভব। ঠিক কোন ট্রেনিং ডেটা বা অ্যালগরিদম থেকে সেটি একটি নির্দিষ্ট উত্তর তৈরি করল, তা স্বয়ং নির্মাতারাও নিখুঁতভাবে বলতে পারবেন না।

অথচ না জেনেই আমরা আমাদের সমস্ত গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্য তুলে দিচ্ছি এই AI-এর হাতে। এর ফলে ভুল তথ্য প্রদান, ডেটা হ্যাক হয়ে যাওয়া কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি সবসময়ই মাথার ওপর ঝুলছে। এই প্রসঙ্গে সত্য নাদেলা স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, “We simply can’t outsource responsibility for what intelligence does on our behalf.” অর্থাৎ, AI আমাদের হয়ে যা করবে বা যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারী বা কোম্পানিকেই নিতে হবে, কোনোমতেই সেই মডেল প্রস্তুতকারক সংস্থা তার দায় নেবে না।

বিপদ এড়ানোর উপায় কী? আনছেন ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’!
এই ক্রমবর্ধমান সংকট থেকে বাঁচতে এক অভিনব সমাধানের পথ বাতলেছেন মাইক্রোসফট প্রধান। তাঁর মতে, বুদ্ধিমত্তা এবং ক্ষমতা—এই দুটি বিষয়কে একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। তাঁর ভাষায়, “We need to separate the supply of intelligence from the authority over it।” অর্থাৎ, AI শুধু তথ্য বা পরামর্শ জোগাবে, কিন্তু সেই পরামর্শ চূড়ান্তভাবে মানা হবে কি না, তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে মানুষ এবং অন্য একটি আলাদা সিস্টেম। এর জন্য তিনি মূলত ৭টি কার্যকরী উপায়ের ওপর জোর দিয়েছেন:

কোনো একটি মাত্র একক AI মডেলের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা না করা।

AI-এর প্রতিটি কাজের ডিজিটাল রেকর্ড বা লগ ফাইল সংরক্ষণ করা, যা কেউ কোনোভাবেই মুছতে পারবে না।

সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কোনো বাইরের সংস্থাকে দিয়ে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট বা পরীক্ষা করোনো।

AI-এর যেকোনো বড় গণ্ডগোল রোধ করতে তাৎক্ষণিক ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ বা কিল সুইচ (Kill Switch) তৈরি রাখা।

সিস্টেমে বড় ধরনের কোনো ভুল ধরা পড়লে তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো।

সত্য নাদেলার মতে, ভবিষ্যতে বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ সিস্টেম সেটাই হবে, যা আমাদের এই মডেলগুলোর ওপর সবচেয়ে কম নির্ভর করতে বা অন্ধ ভরসা না করতে শেখাবে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তাই নিরাপত্তার এই দেয়াল শক্ত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *