“কোনও প্রস্তাব পাইনি, তবে…” রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে অবশেষে সব জল্পনার জবাব দিলেন ধ্রুব রাঠি!

সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ থেকে স্বাধীন সাংবাদিকতার অঙ্গন—দেশের শাসকদল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে নিয়মিত সমালোচনামূলক ভ্লগ ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ তুলে ধরে সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি (Dhruv Rathee)। বিদেশে বসে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলায় তাঁকে বারবার সমালোচনার মুখোমুখি হতে হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে যেন তাঁর প্রভাব পড়েছে সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতেও। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতেই সম্প্রতি জার্মানি থেকে ভারতে উড়ে আসেন হরিয়ানার এই বাসিন্দা। আর ভারতে পা রাখতেই পুলিশের হাতে তাঁর আটক হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দেয়।
শনিবারের ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খোলেন ধ্রুব রাঠি। সেখানে পুলিশি আচরণের বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা হাজারো জল্পনারও সাফ জবাব দিয়েছেন তিনি।
সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা ও ধ্রুবর সাফাই:
দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদ আন্দোলনে তাঁর এই আকস্মিক অংশগ্রহণ দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল যে, জনপ্রিয় এই ইউটিউবার কি তবে এবার কোনো রাজনৈতিক দলের হাত ধরে সরাসরি चुनावी ময়দানে বা দলীয় রাজনীতিতে নামতে চলেছেন?
সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশ্ন সরাসরি করা হলে নিজের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করে দেন ধ্রুব। তিনি জানান, এই মুহূর্তে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার তাঁর কোনো পরিকল্পনা নেই। শনিবারের আন্দোলনে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও, তাঁদের মধ্যে কোনো দলের তরফ থেকেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, আপাতত সক্রিয় রাজনীতিতে নামার গুঞ্জনকে এক লহমায় উড়িয়ে দিলেন তিনি।
ককরোচ জনতা পার্টি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বক্তব্য:
যে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ উদ্যোগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়েছিল, সেই দলের সঙ্গে তাঁর কোনো সাংগঠনিক বা দলীয় যোগ রয়েছে কি না—সে নিয়েও মুখ খুলেছেন ধ্রুব। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এবং যেকোনো অন্যায় বা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সাংবিধানিক অধিকার তাঁর রয়েছে বলেই তিনি এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। প্রতিবাদ করার জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় থাকা বাধ্যতামূলক নয় বলেই মত তাঁর।
বিদেশ থেকে মন্তব্য ও পাসপোর্ট বিতর্ক:
জার্মানিতে বসবাস করেও ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হওয়ায় বিরোধীদের একাংশ তাঁর দেশপ্রেম ও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাংবাদিক বৈঠকে সেই সমালোচনারও উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ধ্রুব রাঠি। কটাক্ষের মুখে পড়ে তিনি প্রকাশ্যেই নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট ক্যামেরার সামনে তুলে ধরে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করেন। তাঁর দ্ব্যর্থহীন বার্তা, ভিনরাজ্যে বা বিদেশে থাকলেও একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দেশের ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলার এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে।
আপাতত রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও, ধ্রুব রাঠির এই ভারত সফর এবং প্রতিবাদী ভূমিকা যে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ার ময়দানে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।