“সুপ্রিম কোর্টকে রাজনীতিতে টানবেন না!” দিল্লির আন্দোলন-বিতর্কে সিজেআই সূর্য কান্তের বিস্ফোরক বার্তা

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-সহ বিরোধী দলগুলির আন্দোলন ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপের আঁচ গিয়ে পৌঁছল দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও। তবে আইনি লড়াইয়ের মাঝে রাজনৈতিক টানাটানি ঢুকে পড়া নিয়ে এবার অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। সোমবার স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, “সুপ্রিম কোর্টকে কোনো ধরনের রাজনীতিতে টানবেন না।” একই সঙ্গে তিনি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, চলমান এই প্রতিবাদের কারণে শীর্ষ আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম কিংবা আইনজীবী, আদালতের কর্মী ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের চলাচলে যেন বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত না ঘটে।
আদালতে স্বাভাবিক কাজ সচল রাখার নির্দেশ
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ)-এর সভাপতি তথা প্রবীণ আইনজীবী প্রদীপ রাই এবং প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে এক নতুন আবেদনের কথা উল্লেখ করেন। দিল্লিতে আইনজীবীদের গণআটক, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা প্রয়োগ নিয়ে মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তাঁরা।
সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আইনজীবীদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তার জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা আছে। কিন্তু আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় যেন কোনো বাধা তৈরি না হয়। আইনজীবী, তাঁদের ক্লার্ক বা দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীদের চলাচলে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা না আসে, তা বার অ্যাসোসিয়েশনকেই সুনিশ্চিত করতে হবে।”
পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ও ক্ষোভ
আদালতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি জানান, দীনেশ দ্বিবেদী এবং শাদান ফরাসতের মতো প্রবীণ আইনজীবীদের আটক ও হেনস্থা করা হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “একটা সময় আসবে যখন সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হতে হবে এবং পুলিশকে কড়া বার্তা দিতে হবে যে তারা যা খুশি করে পার পেয়ে যেতে পারে না।” এমনকি ছোট ছোট আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে মঙ্গলবার সব মামলা একসঙ্গে শুনানির আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
বিরোধী নেতৃত্বকে সাক্ষাতের সময় না দেওয়া ও পদযাত্রার ডাক
উল্লেখ্য, দিল্লির এই আন্দোলন ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় যখন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানান। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মামলাগুলি বিচারালয়ে বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি সেই সাক্ষাতের আবেদন খারিজ করে দেন।
সাক্ষাতের অনুমতি না পেয়ে রাহুল গান্ধী ঘোষণা করেন, বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রা করবেন। এর আগেই রবিবারের বিশেষ বেঞ্চ থেকে অহেতুক গণআটক বন্ধ করা, মেট্রো ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সচল রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে, দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে কী নির্দেশ আসে, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।