টুথপেস্টের টিউবে রঙিন দাগ দেখলেই কি ভয় পান? আসল সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন!

সকালের ঘুম ভাঙার পর টুথপেস্ট ছাড়া দিন শুরুর কথা আমরা কেউ ভাবতেই পারি না। কিন্তু প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার সময় টুথপেস্টের টিউবের একদম নিচের অংশে ছোট ছোট কিছু রঙিন দাগ—যেমন লাল, নীল, সবুজ বা কালো রঙের চিহ্ন কি আপনার চোখে পড়েছে? এই দাগগুলি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মুনির নানা মত এবং অদ্ভুত সব দাবি দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ইন্টারনেটে ছড়ানো ভুল ধারণা ও তার সত্যতা
সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের অন্ধবিশ্বাস অনুযায়ী, টিউবের নিচের ওই রঙ দেখেই নাকি পেস্টের আসল উপাদান চেনা যায়। অনেকেরই ধারণা, সবুজ রঙের দাগ থাকার অর্থ টুথপেস্টটি সম্পূর্ণ ভেষজ বা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি, আবার কালো দাগ দেখলে মনে করা হয় তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো রয়েছে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা এই ধারণাগুলি সম্পূর্ণ ভুল এবং পুরোপুরি ভিত্তিহীন। টুথপেস্টের ভেতরের আসল উপাদানের সঙ্গে টিউবের বাইরের এই রঙের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই। এই সমস্ত জল্পনা কেবল সাধারণ মানুষকে অকারণে বিভ্রান্ত করছে।
টিউবের নিচের রঙিন দাগগুলির আসল কাজ কী?
তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে, এই দাগগুলির নেপথ্যে আসল রহস্যটা কী? কারখানার পরিভাষায় এই রঙিন দাগগুলিকে বলা হয় ‘আই মার্ক’ (Eye Mark) বা ‘কালার মার্ক’ (Color Mark)। এগুলি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নয়, বরং কারখানার অটোমেটিক বা স্বয়ংক্রিয় মেশিনের কাজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়।
টুথপেস্ট তৈরির সময় কারখানায় স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সাহায্যে প্যাকেজিংয়ের কাজ করা হয়। সেই মেশিনের মধ্যে থাকা বিশেষ অপটিক্যাল সেন্সর এই রঙিন দাগগুলিকে স্ক্যান করে। সেন্সর এই দাগগুলি দেখেই নিখুঁত সিগন্যাল পাঠায়, যার মাধ্যমে মেশিন বুঝতে পারে টিউবটি প্যাকেজিংয়ের ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ, টিউবটি কোথায় কাটতে হবে, কোথায় ভাঁজ করতে হবে কিংবা কোথায় সিল করতে হবে—পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয় এই দাগের ওপর নির্ভর করেই।
আলাদা আলাদা রঙের কারণ কী?
এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে তবে কেন বিভিন্ন টিউবে আলাদা আলাদা রঙের দাগ থাকে? এর মূল কারণ হলো, প্যাকেজিংয়ের বাইরের মূল ডিজাইনের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে এমন একটি রঙের দাগ বেছে নেওয়া হয়, যা মেশিনের সেন্সর অত্যন্ত সহজে এবং দ্রুত স্ক্যান করতে পারে। তাই টিউবের নিচে কালো রং দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পরের বার টুথপেস্ট কেনার সময় টিউবের নিচের এই রং দেখে উপাদান বিচার না করে, পেস্টটিতে ঠিক কী কী উপাদান রয়েছে তা জানতে টিউবের গায়ে মুদ্রিত ‘ইনগ্রিডিয়েন্টস’ বা উপাদানের তালিকাটি ভালোভাবে পড়ে নিন। আর দাঁতের সঠিক সুরক্ষা ও সুস্থতার জন্য সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।