তালিবানকে আধুনিক যুদ্ধ শেখাচ্ছে রাশিয়া! পুতিনের এই মারাত্মক চালে এবার কি তবে শেষ পাকিস্তান?

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক নাটকীয় ও চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়ে রাশিয়ার কৌশলগত সামরিক মহড়া ‘সেন্টার-২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে আফগান তালিবানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি দল। মস্কোর সঙ্গে কাবুলের এই দৃশ্যমান ও গভীর সামরিক ঘনিষ্ঠতা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিবানের এই ধরনের অভাবনীয় সামরিক সম্পৃক্ততা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ এবং শক্তির ভারসাম্যকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

আন্দুল্লাহ বিন মাসুদ কোরের কমান্ডার মৌলভি নসিবুল্লাহ মাদানীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল সেখানে শুধু সামরিক মহড়াই প্রত্যক্ষ করেনি, বরং ফাঁке ফাঁকে চলেছে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতাও। রাশিয়া সফরে এসে চীন, ভারত, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সেরেছেন তালিবান প্রতিনিধিরা। মহড়ার পাশাপাশি রাশিয়ার সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র প্রদর্শনীটিও খুব নিবিড়ভাবে ঘুরে দেখেন তাঁরা। নজরদারি ড্রোন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক রোবোটিক যুদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে রুশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে দেখা গেছে তাদের। ২০২৬ সালের মে মাসে মস্কো ও কাবুলের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামরিক-প্রযুক্তিগত চুক্তিরই বাস্তব রূপায়ণ হলো এই মহড়া।

কাবুল ও মস্কোর এই ক্রমবর্ধমান নৈকট্য পাকিস্তানের জন্য এক বিরাট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে কাবুল ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। তার ওপর রাশিয়ার এই মেগা মহড়ায় তালিবানকে অন্তর্ভুক্ত করায় আঞ্চলিক রাজনীতিতে পাকিস্তান একরকম কৌশলগত একাকীত্বের মুখোমুখি হচ্ছে। রুশ সামরিক প্রযুক্তি ও আধুনিক রণকৌশলের সংস্পর্শ পাওয়ার ফলে তালিবানের প্রচলিত সামরিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস যেভাবে বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা আগামী দিনে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *