রাজধানী যেন যুদ্ধক্ষেত্র! দিল্লির ধরপাকড় ও কড়াকড়িকে ‘অঘোষিত এমার-জেন-জি’ বলে মোদী সরকারকে তুলোধনা শশী থারুরের

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নজিরবিহীন ধরপাকড় ও কড়াকড়ি নিয়ে এবার কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। পুরো পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করে তিনি মোদী সরকারকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন।
শশী থারুর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বর্তমান রাজধানী যেভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে এবং চেকপয়েন্ট ও কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে, তাতে এটি একটি ‘অঘোষিত এমার-জেন-জি’ (Undeclared Emer-GenZ)-র পরিস্থিতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিকদের যেভাবে দমন করা হচ্ছে এবং যত্রতত্র তরুণদের আটক করা হচ্ছে, তাকে অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, সরকারের কাজ জনগণের কণ্ঠ রোধ করতে লাঠি চালানো নয়, বরং তাঁদের প্রশ্নের সঠিক ও গণতান্ত্রিক উত্তর দেওয়া।
রাজধানীতে ২২ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসেনা জওয়ানের মোতায়েন, একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার তীব্র সমালোচনা করেছেন এই কংগ্রেস নেতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই ধরনের স্বৈরাচারী পদক্ষেপ বা কড়া ব্যারিকেড দিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বা নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা দূর করা সম্ভব নয়। একটি সুস্থ ও শক্তিশালী গণতন্ত্রের মানদণ্ডই হলো সরকার তার সমালোচকদের কীভাবে মোকাবিলা করছে, আর এই মাপকাঠিতে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে দাবি করেন শশী থারুর।