যন্তর মন্তরে আন্দোলন রুখতে রাজধানীতে নামল ২৬ হাজারের বেশি আধা-সেনা! জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) বিতর্কে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) ইস্তফার দাবিতে সরব হলেও, আগামী শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) প্রতিবাদ সভার অনুমতি পেল না ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP). নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে আবেদন না করার কারণ দর্শিয়ে দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে সেন্ট্রাল দিল্লিগামী বিভিন্ন রুটের অন্তত ৫৭টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষকে। অনুমতি না পাওয়ার কারণ ও পুলিশের কড়া বার্তা:
দিল্লি পুলিশের কমিশনার নুপূর প্রসাদ জানিয়েছেন, সিজেপি নেতা সৌরভ দাস গত বুধবার এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ছাড়পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্পর্শকাতর এলাকায় যেকোনো জনসভা বা প্রতিবাদ আন্দোলনের জন্য অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করা বাধ্যতামূলক। ফলে আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় শনিবারের এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি পুলিশ কমিশনার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতেও একাধিক কর্মসূচিতে এই সংগঠনটি আন্দোলনের নির্ধারিত নিয়মকানুন ও নির্দেশিকা মানতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অনুমতি ব্যতীত শনিবার যন্তর মন্তরে জোর করে জমায়েত বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই সতর্কতার জেরে সেন্ট্রাল দিল্লি ও যন্তর মন্তর চত্বরজুড়ে ব্যারিকেড গড়ে তুলে এক নিটোল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পুলিশ। রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও আধা-সেনা মোতায়েন:
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে ২৬,০ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) কর্মী। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর এবং দিল্লি দাঙ্গার পর রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে বড় পুলিশ ও আধা-সেনা মোতায়েনের ঘটনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুসারে, সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), এসএসবি (SSB), আইটিবিপি (ITBP) এবং সিআইএসএফ (CISF)-এর আরও অন্তত ১১০টি অতিরিক্ত কোম্পানি দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তীসগড় থেকে আগত এই নতুন বাহিনী দিল্লিতে ইতিমধ্যেই কর্মরত ১১১৮টি কোম্পানির সঙ্গে যোগ দিয়েছে। সবমিলিয়ে মোট ২২১টি সিএপিএফ কোম্পানি পুরো দিল্লির নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করবে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *