দিল্লিতে দুই দিন মদ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ! কদিনের নিষেধাজ্ঞায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব লোকসানে মাথায় হাত সরকারের?

রাজধানী দিল্লিতে যখন মদের দোকান বন্ধ থাকে, তখন তা শুধু মদ্যপায়ীদের পকেটকেই প্রভাবিত করে না, বরং সরাসরি আঘাত হানে সরকারি কোষাগারেও। আবগারি বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ ও ১০ অক্টোবর পুরো দিল্লি জুড়ে মদ বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যেহেতু দিল্লিতে মদ শুধু একটি ভোগ্যপণ্য নয়, বরং সরকারি রাজস্বের অন্যতম বৃহত্তম উৎস, তাই এই ৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা মানেই কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন একেবারে থমকে যাওয়া।
দিল্লির বিশাল মদের বাজার ও দৈনিক বিক্রি:
আবগারি বিভাগের তথ্য ও বিক্রির সাম্প্রতিক প্রবণতা বলছে, সাধারণ দিনে দিল্লিতে প্রতিদিন গড়ে ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ বোতল মদ ও বিয়ার বিক্রি হয়ে থাকে। তবে সপ্তাহান্তে কিংবা কোনো বিশেষ উৎসবের সময়ে এই সংখ্যা ১৫ থেকে ১৭ লক্ষের গণ্ডিও ছাড়িয়ে যায়। এই বিপুল পরিমাণ মদের ব্যবসা যদি আর্থিক হিসেবে মাপা হয়, তবে দেখা যায় শহরের কাউন্টারগুলিতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়।
যখন পুরো দিল্লি জুড়েই দুই দিনের জন্য মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়, তখন আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ বোতলের বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খুচরা বাজারের হিসাব অনুযায়ী, এই দুই দিনে মদ বিক্রেতাদের প্রায় ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকার মোট ব্যবসা সম্পূর্ণ থমকে থাকে।
এক ধাক্কায় ৪০ কোটি টাকার কর ক্ষতি সরকারের:
দিল্লি সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি বিরাট অংশ আসে মদের ওপর ধার্য করা আবগারি শুল্ক এবং ভ্যাট থেকে। সরকার প্রতি বছর কেবল আবগারি কর থেকেই ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় করে থাকে। এর সহজ অর্থ দাঁড়ায়, মদ বিক্রি বাবদ সরকার দৈনিক প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা কর হিসেবে ঘরে তোলে।
কিন্তু ৯ ও ১০ অক্টোবর টানা দুই দিন দোকানপাট বন্ধ থাকায় সরকারের এই দৈনিক রাজস্ব আদায় একেবারে শূন্যে নেমে এসেছে। হিসাব অত্যন্ত পরিষ্কার— মাত্র দুই দিন মদের দোকান বন্ধ রাখার ফলে দিল্লি সরকারের কোষাগারে সরাসরি প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কর ক্ষতি হতে চলেছে। উল্লেখ্য, এই করের টাকাই বিভিন্ন সরকারি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন এবং নগর উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়।
এই ক্ষতির ধাক্কা কেবল সাধারণ বা ছোট লাইসেন্সধারী দোকানেই সীমাবদ্ধ নেই। আবগারি বিভাগের কড়া নির্দেশিকায় সরকারি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন এল-৬ এবং এল-৬এফজি লাইসেন্সধারী দোকান, এল-৮ লাইসেন্সধারী দেশি মদের দোকান এবং বড় বড় শপিং মলের এল-১০ ও এল-১৪ লাইসেন্সধারী প্রিমিয়াম স্টোরগুলিও সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের বিক্রি বন্ধ হওয়ায় সরকারের প্রিমিয়াম কর আদায়ের প্রক্রিয়াও পুরোপুরি থমকে গেছে।