একজিমা থাকলে কি মেকআপ করা একেবারেই মানা? ত্বকের ক্ষতি এড়াতে জানুন জরুরি টিপস

একজিমা-আক্রান্ত ত্বকে সাধারণত মেকআপ ব্যবহার করা নিরাপদ হলেও, মুখের ত্বকে যখন একজিমার প্রকোপ বা ‘ফ্লেয়ার-আপ’ (Flare-up) চলতে থাকে, তখন তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। কারণ কিছু নির্দিষ্ট মেকআপ পণ্য একজিমা-প্রবণ ত্বকের সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যার জেরে চুলকানি ও লালচে ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই যে কোনো প্রসাধন সামগ্রী কেনা বা ব্যবহারের পূর্বে উপাদানের তালিকা ভালো করে দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ত্বকের সুরক্ষায় মেনে চলার মতো কিছু সহজ নিয়ম:

কোনো পণ্য হুট করে না বেছে এমন প্রসাধনী খুঁজুন যাতে ‘হাইপোঅ্যালার্জেনিক’ (Hypoallergenic) কিংবা ‘সংবেদনশীল ত্বকের জন্য উপযুক্ত’ (Suitable for Sensitive Skin) এই ধরনের কথা লেখা থাকে।

এই জাতীয় বিশেষ পণ্যগুলিতে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন উপাদানের পরিমাণ খুব কম থাকে।

জেল-ভিত্তিক (Gel-Based) পণ্যগুলি এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলিতে প্রায়শই অ্যালকোহল-যুক্ত উপাদান থাকে যা শুষ্ক ত্বককে আরও বেশি শুষ্ক করে তোলে।

এর পরিবর্তে ক্রিম বা মুস (Mousse) ফর্মুলার প্রসাধন সামগ্রীকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

একজিমা-প্রবণ ত্বকের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ উপাদান:

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড

গ্লিসারিন

সেরামাইডস

নিয়াসিনামাইড

যে সমস্ত উপাদানগুলি অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন:

সুগন্ধিযুক্ত পণ্য: একজিমায় আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষেরই কৃত্রিম সুগন্ধি বা ফ্র্যাগ্রেন্সের প্রতি অ্যালার্জি থাকে। এসেনশিয়াল অয়েল বা সুগন্ধি তেলযুক্ত প্রসাধনও ত্বকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রিজারভেটিভ: প্যারাবেন, বেনজাইল অ্যালকোহল এবং ফরমালডিহাইডের মতো ক্ষতিকারক প্রিজারভেটিভযুক্ত পণ্য ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

রাসায়নিক সানস্ক্রিন: সংবেদনশীল বা একজিমা-প্রবণ ত্বকের জন্য কেমিক্যাল সানস্ক্রিনের চেয়ে খনিজ-ভিত্তিক (মিনারেল-বেসড) সানস্ক্রিন অনেক বেশি নিরাপদ।

মেকআপ করার সঠিক পদ্ধতি ও প্রস্তুতি:

সবার প্রথমে একজিমা-বান্ধব হালকা কোনো ক্লিনজার দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।

ত্বকের উপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে নিন, যা মেকআপের কণাগুলিকে সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসা থেকে বাধা দেয়।

মেকআপ মুখে লাগানোর জন্য হাত বা রুক্ষ জিনিসের বদলে স্পঞ্জ বা নরম মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করুন।

ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে সবসময় প্রাইমার লাগান, কারণ এটি ত্বক এবং মেকআপের মাঝে একটি বাফার বা সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে।

কৃত্রিম চোখের পাপড়ি বা ফলস আইল্যাশ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে ব্যবহৃত আঠা শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ওয়াটারপ্রুফ চোখের মেকআপও একজিমা-প্রবণ ত্বকের পক্ষে মোটেও উপযুক্ত নয়, কারণ এগুলি তোলার সময় ত্বক বেশ জোরে ঘষতে হয়।

যেসব পরিস্থিতিতে মেকআপ থেকে দূরে থাকবেন:

মুখের ত্বকে যদি সক্রিয় একজিমার প্রকোপ বা র‍্যাশ থাকে।

মুখে যদি কোনো ধরনের ফোলা ভাব দেখা দেয়।

ত্বকে কোনো ফাটল বা শক্ত আস্তরণ বা ক্রাস্ট তৈরি হলে।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সমস্ত তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতা ও সাধারণ জ্ঞানের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। এখানে প্রদত্ত কোনো পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। যদি আগে থেকেই কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা চর্মরোগ থাকে, তবে তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *