শেখ হাসিনাকে কি আইনি পথেই ফেরত পাঠাচ্ছে দিল্লি? জোর জল্পনায় তোপ দাগছে ঢাকা!

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সে দেশের একটি অংশের দাবি, ভারত নাকি আইনি পথে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সমাজমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা চর্চা চলছে।
নয়াদিল্লিতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মূলত দু’রকমের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। একদিকে শেখ হাসিনা নিজে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক। এর জন্য তাঁর পাসপোর্ট বা বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ট্রাভেল ডকুমেন্টের প্রয়োজন। অন্যদিকে, তারেক রহমানের সরকারের সাফ দাবি, হাসিনা যেহেতু একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাই দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তি মেনে তাঁকে আইনি পথেই বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি ও বিচারিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একই সুরে স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিচারিক প্রক্রিয়া একটি সুনির্দিষ্ট আইনি নিয়মে চলে, ফলে এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকারিভাবে আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হলেও নয়াদিল্লির অন্দরে অন্য ভাবনাও রয়েছে। ভারত চাইছে, শেখ হাসিনার নিজস্ব ইচ্ছাকে এবং তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণাকে বাংলাদেশ সরকার মর্যাদা দিক। যদিও ঢাকা এই প্রস্তাবে এখনও রাজি নয়। সবমিলিয়ে, প্রত্যর্পণ চুক্তি বনাম ব্যক্তিগত ইচ্ছার এই দ্বন্দ্বে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান অধ্যায়ে জল্পনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।