হাতের লাখ টাকা সোজা ত্রাণ তহবিলে! অনুদান নিয়ে পুজো কমিটিগুলির পদক্ষেপে সরকারি কোষাগারে বাঁচছে কত কোটি?

মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ আবেদনে সাড়া দিয়ে পুজোর সরকারি অনুদান থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল কলকাতার একের পর এক নামী-সনামধন্য দুর্গাপুজো কমিটি। চলতি বছর বড় বাজেটের পুজো উদ্যোক্তাদের সরকারি সাহায্য না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ছিল, আর্থিকভাবে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী পুজো কমিটিগুলি এই অর্থ না নিলে সেই সুবিধা আরও সহজে ছোট ও প্রান্তিক পুজো কমিটিগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমূল বদলে গেল ছবিটা।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী, ত্রিধারা সম্মিলনী, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ, সুরুচি সঙ্ঘ, টালা প্রত্যয়, হাতিবাগান সর্বজনীন, আহিরিটোলা সর্বজনীন, নিউটাউন সর্বজনীন, মুদিয়ালি ক্লাব, সন্তোষপুর লেকপল্লি, চোরবাগান সর্বজনীন, সিংহী পার্ক এবং ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক-সহ একাধিক হেভিওয়েট পুজো কমিটি এ বছর সরকারের কাছ থেকে কোনো অনুদান না নেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

শুধু অনুদান বর্জনই নয়, কিছু কমিটি এর চেয়েও এক পা এগিয়ে অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেমন, রাজডাঙা নব উদয় সঙ্ঘের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি অনুদানের এক লক্ষ টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে এলেই সেই পুরো অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করে দেওয়া হবে। একই পথে হেঁটে নিউ আলিপুরের সুরুচি সঙ্ঘ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পুজোর উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ওই অর্থ ‘রিটার্ন গিফট’ হিসেবে সঁপে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে ২০১৮ সাল থেকে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে সরকারি আর্থিক সাহায্যের প্রথা চালু হয়েছিল। সে সময় অনুদানের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে বাড়তে বাড়তে গত বছর তা ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। তবে নতুন সরকারের প্রথম বছরে অনুদান কিছুটা কমিয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। বড় পুজোগুলির এই মহৎ ত্যাগের ফলে প্রশাসনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৩ হাজার পুজো কমিটি এবার সরকারি সাহায্য এড়িয়ে চলেছে, যার জেরে সরকারের কোষাগারে প্রায় ৩০ কোটি টাকা বাঁচবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বড়দের এই স্বতঃস্ফূর্ত সরে দাঁড়ানোই এবারের পুজোয় এক নতুন নজির তৈরি করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *