প্রযোজককে মটন খাইয়ে সটান বাসন মাজার নির্দেশ! অদ্ভুত নিয়মে চলতেন কোটি টাকার পারিশ্রমিক চাওয়া নানা

বক্স অফিসের সাফল্যের আলো কিংবা পর্দায় খলনায়কসুলভ কড়া মেজাজ— সব ছাপিয়ে নানা পাটেকরের ব্যক্তিত্বের অন্য এক দিক ছিল তাঁর সরলতা, স্পষ্টবাদিতা এবং রান্নার প্রতি গভীর ভালোবাসা। ক্যামেরা অফ হলেই সেটের সবার খেয়াল রাখা আর রান্না করে খাওয়ানো ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শখ। কিন্তু একই সঙ্গে নিজের শর্তে চলা এই মানুষটি প্রযোজকদেরও বুঝিয়ে দিতেন যে তাঁর সম্মান ও পারিশ্রমিকের সঙ্গে আপস চলে না।

প্রযোজককে মটন খাইয়ে বাসন মাজার শিক্ষা
নানা পাটেকরের মেজাজ এবং পারিশ্রমিক দুটোই বরাবর ইন্ডাস্ট্রির চর্চার বিষয় ছিল। অভিনেতা পরেশ রাওয়াল এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, চরিত্রাভিনেতা হিসেবে বলিউডে প্রথম এক কোটি টাকা পারিশ্রমিক হেঁকেছিলেন নানা পাটেকর। নব্বইয়ের দশকে এই অঙ্ক শুনে অনেকেই চমকে গিয়েছিলেন। সেই বিপুল পারিশ্রমিক নিয়ে হইচই হওয়ার সময় সিনেমার এক প্রযোজক নানার বাড়িতে এসেছিলেন দরাদরি করার উদ্দেশ্যে।

প্রযোজককে বাড়িতে ডেকে সটান মটন কারি খাইয়ে তৃপ্ত করেছিলেন নানা। এরপর পেটপুজো সেরে প্রযোজক যখন টাকা কমানোর কথা ভাববেন, ঠিক তখনই নানার কড়া নির্দেশ আসে— “খাওয়া তো হল, এবার গিয়ে নিজের এঁটো বাসনগুলো মেজে ফেলো!” এক কোটি টাকা চাওয়ার সাহস দেখানো নানা এই অভিনব উপায়ে প্রযোজককে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি কারও কাছে মাথা নত করার পাত্র নন। অবাক প্রযোজককে সেদিন সুপারস্টারের বাড়িতে বসে নিজের এঁটো বাসনই মাজতে হয়েছিল। পরেশ রাওয়ালের কথায়, নানা পাটেকরের শিকড় ও ব্যক্তিত্ব ছিল একেবারে আলাদা।

সেটের ‘অভিভাবক’ ও দিলখোলা রাঁধুনি
ক্যামেরার সামনে তিনি যতটাই কড়া, পর্দার পিছনে ঠিক ততটাই দিলখোলা ছিলেন। অভিনয় বাদে সেটে তাঁর প্রধান কাজই ছিল খুন্তি নাড়া। অভিনেত্রী কুবরা সৈতও নানার এই উদ্যমে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সত্তরোর্ধ্ব এক প্রবীণ মানুষ, যিনি প্যাক-আপ না হওয়া পর্যন্ত কখনও সেট ছাড়তেন না। কাজ শেষে গোটা ইউনিটের জন্য নিজের হাতে রান্না করতেন এবং সবাইকে খাইয়ে তবে বাড়ি ফিরতেন।

রান্নার এই রহস্য নিয়ে একবার নানা নিজেই জানিয়েছিলেন, সন্ধেবেলা কাজ শেষে সবাই একসঙ্গে খেতে বসলে একটা অদ্ভুত পারিবারিক বন্ধন তৈরি হয়। বয়সে সবার বড় হওয়ায় সেটে কেউ ভুল করলে বকুনি দিতেও পিছপা হতেন না তিনি। তাঁর কাছে এই রান্না শুধু শখ ছিল না, বরং গোটা ইউনিটকে একসঙ্গে বেঁধে রাখার এক সুন্দর মাধ্যম ছিল।

চিরতরে থেমে গেল পাঁচ দশকের বর্ণময় সফর
বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই নেমে এল সেই মর্মান্তিক খবর। ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। ডোনা পাওলার এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। বলিউড শুধু একজন দাপুটে অভিনেতাকে হারাল না, চিরকালের মতো হারিয়ে ফেলল সেটের সেই প্রিয় অভিভাবক ও দিলখোলা রাঁধুনিকে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *